প্রযুক্তি নিয়ে জানি

অ্যাপল ফেইস আইডি কিভাবে কাজ করে

March 23, 2019

অ্যাপল ফেইস আইডি কিভাবে কাজ করে

ফেইস আইডি এক ধরনের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম। যা কোন ব্যক্তির চেহারাকে একটি পাসওয়ার্ডের মত ব্যবহার করে। অ্যামেরিকান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ২০১৭ সালে এই প্রযুক্তি সর্বপ্রথম তাদের Iphone X এর মাধ্যমে বাজারে আনে। একটা জিনিস জেনে রাখা ভাল যে অ্যাপল প্রথম ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম উদ্ভাবন করেনি বা তারাই প্রথম এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেনি। তাদের ফেইস আইডির কাজ করার ধরন আগের প্রযুক্তির থেকে আলাদা। কিন্তু ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক আগে থেকেই ছিল।

ফেইস আইডি হচ্ছে একটি বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেম। শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পৃথিবীর সব মানুষ আলাদা হয়। প্রত্যেক মানুষের শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ আলাদা ভাবে চিহ্নিত করার জন্য শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য সমূহ শনাক্ত করা হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বলে। মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমন, কথা বলার ধরন, কথা বলার সময় হাত, মুখ, চোখ নাড়ানো, হাটার কৌশল এইসবও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হয়। বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণের জন্য শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে আলাদা ভাবে স্ক্যান করে সেই অঙ্গের একটি ডিজিটাল চিত্র তৈরি করা হয়। এই চিত্রই রেকর্ড আকারে জমা করে রাখা হয়। যখন প্রয়োজন হয় তখন আলাদা আলাদা অঙ্গকে পুনরায় স্ক্যান করে আগে থেকে জমা করে রাখা ডিজিটাল চিত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। যদি দুটি চিত্র একই রকম হয় তাহলে বুঝা যাবে যে জমা করে রাখা চিত্র আর নতুন করে স্ক্যান করা চিত্র একই ব্যক্তির। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সাধারণত ব্যবহার করা হয় সিকিউরিটি সিস্টেমের জন্য। বায়োমেট্রিক পদ্ধতির জন্য চেহারা, চোখের রেটিনা, হাতের ছাপ, আঙ্গুলের ছাপ, হাতের শিরা ইত্যাদি অঙ্গ ব্যবহার করা হয়।এছাড়া ডি.এন.এ পরীক্ষাও এক ধরনের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া।

অ্যাপল তাদের আগের মোবাইল ফোন সমূহে টাচ আইডি বায়োমেট্রিক সিস্টেম ব্যবহার করতো। যা আঙ্গুলের ছাপ দ্বারা কাজ করতো। আইফোন ১০ থেকে অ্যাপল তাদের নতুন সকল মোবাইল ফোনে ফেইস আইডি সিকিউরিটি সিস্টেম চালু করে।

ফেইস আইডি কিভাবে কাজ করে?

ফেইস আইডি একটি বিশেষ পদ্ধতিতে কাজ করে। আইফোনে ফেইস আইডি সিস্টেমের কাজ করার জন্য আইফোনের ট্র্যাডিশনাল নচের ভেতর আলাদা ক্যামেরা এবং সেন্সর থাকে। এগুলো হল Dot Projector, Infared Camera এবং Flood Illumintor। এই তিনটির কাজ ভিন্ন রকমের। ডট প্রোজেক্টর দিয়ে ব্যবহারকারীর চেহারায় ৩০ হাজারের উপর অনেক ক্ষুদ্রাকৃতির Infared আলোক বিন্দু ফেলা হয়। এই আলোক বিন্দু মানুষ খালি চোখে দেখতে পারেনা। এই আলোক বিন্দু গুলো দিয়ে মানুষের চেহারার একটি জ্যামিতিক চিত্র গঠন করা হয়। চেহারার প্রতিটি অংশের মধ্যে পার্থক্য এবং প্রতিটি অংশের ভাঁজ,দাগ আকৃতিগত পার্থক্য জ্যামিতিক উপায়ে ম্যাপ করা হয়। পরবর্তীতে এই ম্যাপকে একটি দ্বিমাত্রিক চিত্রতে পরিবর্তন করা হয়। এই দ্বিমাত্রিক চিত্রই ফেইস আইডির মূল হিসেবে কাজ করে। যখন ফোনের লক খোলার চেষ্টা করা হয় তখন আগে থেকে ম্যাপ করে রাখা দ্বিমাত্রিক চিত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। যদি চিত্রের সাথে মোবাইল ফোনের লক খুলতে চেষ্টা করা ব্যক্তির চেহারা মিলে যায় তাহলে ফোনের লক খুলে যাবে।

ফেইস আইডি সিস্টেমের অ্যালগরিদম চোখ,নাক এবং মুখের গঠনকে চেহারা শনাক্তকরণের মূল হিসেবে দেখে থাকে। যখন ব্যবহারকারী ফোনের লক খোলার চেষ্টা করেন তখন ডট প্রোজেক্টর থেকে নির্গত ইনফারেড আলোর বিন্দুসমূহ এই তিনটি স্থানে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়। চেহারার এই তিন স্থানের সব ধরনের ক্ষুদ্র পার্থক্য আর বৈশিষ্ট্যকে খুব ভাল ভাবে দ্বিমাত্রিক ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যাতে ফোনের সিকিউরিটি সিস্টেমে কোন ত্রুটি না থাকে। যদি চোখ,নাক এবং মুখের জায়গা সমূহে অন্য কোন কিছু লাগানো থাকে বা পরিবর্তন হয় তাহলে ফেইস আইডি আর কাজ করবে না। কারণ একদম সহজ, আগে থেকে নির্ণয় করে রাখা দ্বিমাত্রিক চিত্রের সাথে নতুন করে গ্রহণ করা চিত্রের সাথে মিল না থাকা।

তাহলে প্রশ্ন হল, যদি চোখে চশমা বা সানগ্লাস থাকে? অথবা মুখে মেকআপ করা থাকে তাহলে কি ফেইস আইডি কাজ করবে না?

অবশ্যই করবে। মেকআপ বা সানগ্লাস ব্যবহারের কারণে আপনি আপনার চেহারা চিনতে না পারলেও ফেইস আইডি ঠিকই আপনাকে চিনে নিবে। ফেইস আইডির উন্নত মেশিন লার্নিং বা AI অ্যালগরিদম মাথায় টুপি পড়া, মেকআপ করা, চশমা বা সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় খুব সহজেই ব্যবহারকারীকে চিনে নিবে। তবে সব ধরনের সানগ্লাস ব্যবহারে একটু সমস্যা আছে। যে সকল সানগ্লাসের মধ্যে দিয়ে ইনফারেড আলো সহজেই প্রবেশ করতে পারে এবং আলোর গতিপথ ঘুরে না যায় সে সকল সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় কোন সমস্যা ছাড়াই ফোনের লক খোলা যাবে।

আপনার দাড়ি আছে। অনেক দিন পর আপনি দাড়ি কাটলেন। ফেইস আইডি দিয়ে ফোনের লক খুলতে কোন সমস্যা হবে না।কারণ ফেইস আইডির অ্যালগরিদম আপনাকে চিনে নেবে। একে বলা হয় Adaptive Recognition। এর মাধ্যমেই চেহারার সব ধরনের সাধারণ পরিবর্তনে ফেইস আইডি কাজ করবে। তবে ফেইস আইডি ব্যবহারে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। যখন লক খোলার চেষ্টা করা হবে তখন অবশ্যই চোখ খোলা রাখতে হবে। চোখ বন্ধ অবস্থায় কোন ভাবেই লক খোলা সম্ভব হবেনা। ফোন চেহারার সামনে ১০-২০ ইঞ্চি দূরত্বের মধ্যে রাখতে হবে। এক চোখ বন্ধ অবস্থায় ফোনের লক খোলা যাবে না।

ফেইস আইডির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে Flood Illuminator ও Infared Camera। এটির জন্য রাতের অন্ধকারেও ফেইস আইডি কাজ করবে ও খুব সহজেই ফোনে লক খোলা যাবে। তবে যদি মোবাইলের উপর সরাসরি ভাবে তীব্র কোন আলো পড়ে তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ফেইস আইডি কাজ করবে না। কারণ ইনফারেড আলোর বিন্দু তীব্র আলো অথবা সরাসরি সূর্যের আলোতে চেহারার উপর সঠিক ভাবে পড়বে না।

এবার একটু ভিতরের দিকে লক্ষ্য করা যাক। ফেইস আইডি ব্যবহারকারীর চেহারা স্ক্যান করার জন্য তিনটি মূল হার্ডওয়্যার ক্যামেরা এবং সেন্সর ছাড়াও আরেকটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ব্যবহার করে থাকে। বলা যেতে পারে এটিই ফেইস আইডির প্রধান কন্ট্রোল সিস্টেম। অ্যাপল A11 এবং A12 Bionic প্রসেসরের ভেতর রয়েছে Neural Engine.এটি একটি আলাদা নিউরাল নেটওয়ার্ক প্রসেসিং হার্ডওয়্যার। অ্যাপল প্রসেসর চিপের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নিউরাল ইঞ্জিন অ্যাডভান্সড মেশিন লার্নিং বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রসেসিং ইউনিট। এর মধ্যে ফেইস আইডির জন্য মেশিন লার্নিং এর সকল অ্যালগরিদম এবং সংগৃহীত তথ্য প্রসেস করা হয়।

অ্যাপল তাদের নতুন A11 এবং A12 প্রসেসরের জন্য বিশেষ ভাবে এই নিউরাল ইঞ্জিন তৈরি করে। অ্যাপল তাদের আইফোন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেছিল তাদের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইউনিট সবাই এক সাথে কাজ করেছে এই নিউরাল ইঞ্জিন তৈরি করতে। যার ফলে তাদের ফেইস আইডি সিস্টেম সব থেকে উন্নত এবং নিরাপদ। A11 চিপের নিউরাল ইঞ্জিন একটি ডুয়েল কোর প্রসেসিং ইউনিট যা প্রতি সেকেন্ডে ৬০০ বিলিয়ন অপারেশন এক্সিকিউট করতে পারে। আর A12 এর নিউরাল ইঞ্জিন ৮ কোরের এবং সেকেন্ডে ৫ ট্রিলিয়ন অপারেশন এক্সিকিউট করতে পারে। এত বেশি প্রসেসিং ক্ষমতা ফেইস আইডির রিয়েল টাইম ফেইস রিকগনিশন সিস্টেমকে আরও ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। পরবর্তী প্রজন্মের প্রসেসরে অ্যাপল আবশ্যিকভাবে এই ক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করবে।

সিকিউরিটি

ফেইস আইডির নিরাপত্তা মোবাইল ফোনে থাকা অন্য সকল সিকিউরিটি সিস্টেমের থেকে অনেক বেশি মজবুত। অ্যাপল তাদের ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত সকল তথ্যকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। আর আমরা সবাই জানি যে অ্যাপলের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম iOS অন্য সকল মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ। কোন ভাবে যাতে ফেইস আইডির নিরাপত্তা বলয় ভেঙ্গে মোবাইল ফোনের লক খোলা না যায় অ্যাপল তা ফেইস আইডির উন্নত মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম দ্বারা নিশ্চিত করেছে। কোন প্রকার ছবি অথবা ভিডিও এর মাধ্যমে ফেইস আইডি ব্যবহার করে মোবাইলের লক খোলা যাবেনা। একই রকম দেখতে দুই যমজের ক্ষেত্রেও ফেইস আইডি খুব কম কাজ করবে। মানে যদি দুই যমজ ভাই অথবা বোন একদমই দেখতে একই রকম সেই ক্ষেত্রে কিছু সময় ফেইস আইডি কাজ করতে পারে। তবে এর পরিমাণও অনেক নগণ্য।

অ্যাপলের তথ্যানুযায়ী এর পরিমাণ লাখে ১ জন। কারণ সব যমজ দেখতে একই রকম হয় না। কিছু পার্থক্য থাকে দুই জনের মাঝে। আর এই পার্থক্য দ্বারাই ফেইস আইডি ঠিক মত কাজ করবে। অনেক ব্যবহারকারী এই যমজের ব্যাপারটি পরীক্ষা করে দেখেছে এবং অনেকেই ফেইস আইডিকে বোকা বানাতে পারেনি। কেউ যদি আপনার চেহারার মত করে জীবন্ত বুঝা যায় এমন কোন মাস্ক বানিয়ে ফেইস আইডি ব্যবহার করতে চায় তাহলে সেই ক্ষেত্রেও ঐ ব্যক্তি সফল হবেনা। কারণ অ্যাপল মাস্ক বানানো বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে ফেইস আইডির নিউরাল নেটওয়ার্ক মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমকে এই রকম পরিস্থিতি সম্পর্কে শিখিয়ে নিয়েছে। যাতে পরবর্তীতে এমন কিছু সামনে আসলে ফেইস আইডির নিউরাল নেটওয়ার্ক অ্যালগরিদম মানুষ এবং মাস্কের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। এটি হচ্ছে মেশিন লার্নিং বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সর বিশেষত্ব। যা একবার শিখে যাবে তা কখনও আর ভুলবেনা।

ফেইস আইডির সকল তথ্য মোবাইল ফোনের ভিতরেই সংরক্ষিত থাকে। অ্যাপল প্রসেসর চিপের মধ্যে একটি নিরাপদ Enclave এর মধ্যে ফেইস আইডির সকল তথ্য জমা থাকে। ফেইস রিকগনিশন প্রসেস মোবাইলের প্রসেসর চিপের মধ্যেই করা হয়। তারমানে ফেইস আইডির তথ্য অন্য কোন সংরক্ষণের জায়গা বা সার্ভারে রাখা হয় না। এটি করা হয় যাতে বাইরে থেকে ফেইস আইডির তথ্য কেউ চুরি করতে না পারে। এর মাধ্যমে ফেইস আইডির নিরাপত্তা অনেক বেশি শক্ত করা হয়েছে।

তবে ফেইস আইডি যে শতভাগ নিরাপদ তা কিন্তু নয়। প্রযুক্তির বর্তমান যুগে কোন কিছুই নিরাপদ নয়। সব ধরনের তথ্য আদান প্রদানকারী ডিভাইসের নিরাপত্তা বলয় নষ্ট করা যায়। এখন পর্যন্ত ফেইস আইডির লক্ষণীয় কোন হ্যাক করা যায়নি। তবে সম্প্রতি ভিয়েতনামের একদল প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ 3D প্রিন্ট করা মাস্কের উপর আলাদা ভাবে প্রিন্ট করা ছবি বসিয়ে ফেইস আইডি হ্যাক করতে সফল হয়। এই বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান জানান যে এটি কোন সহজ কাজ ছিলনা। মাস্ক বানিয়ে প্রিন্ট করা ছবি বসিয়ে সম্পূর্ণ কাজটি করতে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে এবং সব সময় এই প্রক্রিয়া সফল হয়না। ফেইস আইডি হ্যাক করার জন্য মাস্ক এবং মোবাইল দুটিই একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব ও কোণ বরাবর রাখতে হয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট

ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে জানতে
ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর

ফিচার

ফেইস আইডি ব্যবহার করে অ্যাপল পে সার্ভিস ঠিক আগের মতই ব্যবহার করা যাবে। ফেইস আইডি দিয়ে পে সার্ভিস ব্যবহার করা যাবে কিনা এটি নিয়ে অনেক ব্যবহারকারী শঙ্কায় ছিলেন। ফেইস আইডি দিয়ে অ্যাপল পে সার্ভিস ছাড়াও অ্যাপলের অন্য সকল সার্ভিস যেমন অ্যাপ স্টোরে অ্যাপ কেনা,আইটিউন ও আইবুকস ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও কিছু কিছু অ্যাপের জন্য ফেইস আইডি কাজ করবে। যেমন ব্যাংকিং ও পাসওয়ার্ড ম্যানেজিং অ্যাপ। আইফোনের নতুন মডেল গুলোতে ফেইস আইডি আরও বেশি সক্রিয় ও গতিশীল করা হয়েছে।

iPhone X এর ফেইস আইডির থেকে এর পরবর্তী মডেল গুলোতে ফেইস আইডি আরও দ্রুত কাজ করে। নতুন মডেল গুলোতে আরও উন্নত সেন্সর ও ইনফারেড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইলের লক খোলার সময় আরও কমে গেছে। iOS 12 এ নতুন ভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে আরও একটি ফিচার। এখন একটি ফোনে দুইজন ব্যক্তি আলাদাভাবে ফেইস আইডি ব্যবহার করতে পারবে। অ্যাপল তাদের নতুন ডিভাইস গুলোতেও ফেইস আইডির ব্যবহার শুরু করেছে। এখন ব্যবহারকারীরা নতুন আইপ্যাড প্রো মডেলে ফেইস আইডি ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপল ভবিষ্যতে ম্যাকবুকে তাদের এই ফেইস আইডি সিস্টেম চালু করতে পারে।

সমস্যা

নতুন কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে এর সাথে কিছু সমস্যার ও শুরু হয়। প্রথমবার ব্যবহার করার কারণে অনেক ব্যবহারকারী এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলেন না। এছাড়া অ্যাপল সার্ভিস সমূহের ব্যবহার নিয়ে সবাই সমস্যায় ছিলেন। যা সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যায়। ফোনের লক খোলার জন্য একজন মাত্র ব্যক্তির চেহারাকে ব্যবহার করা অনেক বড় সমস্যা ছিল যেটি অ্যাপল তাদের নতুন আপডেটে ঠিক করেছে। কিন্তু এখনো এর মধ্যে সমস্যা আছে। যেমন কোন কোম্পানিতে একটি আইপ্যাড অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করা হয় এবং আইপ্যাডটি অনেক ব্যক্তি কাজের জন্য ব্যবহার করে। এই ক্ষেত্রে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ফেইস আইডি ব্যবহার করতে পারবে,বাকিরা পিন অথবা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবে। যা একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। একটি ফোনে ফেইস আইডি থাকা সত্ত্বেও সেটিতে পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করা যায়। এটি এক দিক থেকে সুবিধাজনক মনে হলেও অনেক বড় একটি সমস্যা। কার কেউ যদি পিন বা পাসওয়ার্ড জেনে থাকে তাহলে সে খুব সহজেই ফোনের লক খুলে ফেলতে পারবে।

ফেইস আইডির ভবিষ্যৎ

মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ ও অন্যান্য সাধারণ ডিভাইসের মধ্যে ব্যবহার করা বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেমের মধ্যে ফেইস আইডি সব থেকে বেশি উন্নত এবং নিরাপদ। আন্ড্রয়েড, উইন্ডোজ এবং অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের থেকে অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেমের বায়মেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেম অনেক বেশি নিরাপদ। ধীরে ধীরে অ্যাপল তাদের এই সিকিউরিটি সিস্টেম আরও বেশি উন্নত ও নিরাপদ করে চলেছে। এর উন্নত হার্ডওয়ার, মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম, অ্যাপল প্রসেসর, নিউরাল ইঞ্জিন সব কিছুই অন্য সব প্রযুক্তি থেকে অনেক বেশি উন্নত। তাদের পরিকল্পনা তাদের সকল ডিভাইসে ফেইস আইডির ব্যবহার শুরু করবে। অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অ্যাপলের সাথে তাদের ডিভাইসে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ব্যবহার শুরু করেছে। তাই বুঝাই যাচ্ছে যে পরবর্তীতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমই হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নতুন মাধ্যম। আর অ্যাপল এই দিকে সবার থেকে এগিয়ে থাকবে তাদের ফেইস আইডি দিয়ে।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

Reference

Face ID, Apple Face ID, Apple FaceID

Face ID Security,

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *