বাংলাদেশ মহাকাশ ও বিজ্ঞান

বঙ্গবন্ধ স্যাটেলাইট ১

July 25, 2018

বঙ্গবন্ধ স্যাটেলাইট ১

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উঠতে যাবে এই মে মাসে। যা বাংলাদেশের মানুষের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম করবে। স্যাটেলাইট হল এমন একটি বস্তু যা কোন গ্রহ বা নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে ঘূর্ণনরত অবস্থায় থাকে। যেমন আমাদের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদ ঘূর্ণনরত অবস্থায় আছে, তাই চাঁদ হল আমাদের পৃথিবীর স্যাটেলাইট। তেমনি আমাদের পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনরত অবস্থায় আছে, তাহলে পৃথিবী হল সূর্যের স্যাটেলাইট।

সচরাচর আমরা স্যাটেলাইট বলতে যা বুঝি কোন যন্ত্র যা মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং তা পৃথিবী অথবা অন্য কোন গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে ঘূর্ণনরত অবস্থায় থাকে। হাজারো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট আছে যা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া উল্কাপিণ্ড নজরদারি, মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর ছবি তোলা, ঘূর্ণিঝড় নজরদারি, আবহাওয়ার অবস্থা, যোগাযোগ, অথবা গ্যালাক্সির দূরের কোন গ্রহ অনুসন্ধান করার জন্যও স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়।

সাধারণত বিশটি স্যাটেলাইট অথবা তার বেশি স্যাটেলাইটের একটি গ্রুপ একসাথে ব্যবহার করা হয় গ্লোবাল পজিশন সিস্টেম অথবা জিপিএসের জন্য। যদি আমার কাছে কোন জিপিএস রিসিভার থাকে তাহলে এই স্যাটেলাইট আমাকে সাহায্য করতে পারে আমার সঠিক স্থান নির্ণয় করার জন্য।

বাংলাদেশ কবে থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করে

১৪ই জুন ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন প্রথম বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন তখন থেকে বাঙালি জাতি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে একদিন তাদের নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে যাবে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে আবার নতুন করে কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হওয়ায় সেবার আর এই প্রস্তাব সামনে এগোতে পারেনি। পরে যখন ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করে, তখন আবার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে একটি মাত্র টিভি চ্যানেল ছিল। ৯০ দশকের শেষের দিকে প্রথম কোন বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করে। এরপর আরও দুই-একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করলেও মূলত এর সংখ্যা ২০০০ সালের পরে অধিকতর হারে বাড়তে থাকে, সাথে বাড়তে থাকে বাংলাদেশে বেসরকারি রেডিও চ্যানেলের সংখ্যা। বর্তমানে বাংলাদেশে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা প্রায় ৪৩ টি এবং রেডিও চ্যানেলের সংখ্যা প্রায় ২৮ টির কাছাকাছি, নিকট ভবিষ্যতে এই চ্যানেলের সংখ্যা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার কাজ সঠিকমত পরিচালনা করার জন্য অন্য দেশের স্যাটেলাইটের উপর নির্ভর করতে হয়।এর জন্য এতদিন পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার সেবা নেওয়া হত। সম্প্রচার কাজ পরিচালনা করার জন্য সরকারী টিভি চ্যানেলগুলো বর্তমানে ব্যবহার করে AsiaSat-3s স্যাটেলাইট যা ১০৫.৫ ডিগ্রি পূর্ব দিকে অবস্থিত আর বেসরকারি টিভি চ্যানেল, রেডিও ও অনন্যা টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলো ব্যাবহার করে ApStar-7 স্যাটেলাইট যা ৭৬.৫ ডিগ্রি পূর্ব দিকে অবস্থিত।

BTRC স্যাটেলাইট ভাড়া-বাবদ বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে টিভি ও রেডিও চ্যানেল বাড়ার সাথে সাথে এই খরচ দিন দিন আরো বাড়ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের টিভি, রেডিও, যোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রচার, ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের জন্য নিজেরদের আলাদা একটি স্যাটেলাইট খুবই প্রয়োজন।

২০০৮ সালে BTRC বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর জন্য পুনরায় প্রস্তাব করলে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। BTRC তখন নতুন কমিটি গঠন করে কিন্তু কোন কারণে কমিটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, সেই কমিটি ভেঙ্গে ২০১০ সালে পুনরায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান কাজ ছিল স্যাটেলাইটের জন্য অরবিট নির্বাচন করা, ITU এর সদস্যপদ অর্জন করা এবং নির্বাচিত অরবিটের জন্য ITU এর কাছে অনুরোধ করা।

যেহেতু বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ক্রয় বা এর ব্যবস্থাদি ও কার্যপ্রণালী নিয়ে কোন ধারণা ছিল না তাই তারা আমেরিকান স্পেস ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিষয়ে পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতা গ্রহণ করে। এরপর স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুসারে তাদেরকে স্যাটেলাইটের ধরন, কার্যপ্রণালী, সার্ভিস-লাইফ, টোটাল ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ, অর-বিট ভাড়া নেওয়া, স্যাটেলাইট কেনা, স্যাটেলাইট আকাশে পাঠানো, দক্ষ স্যাটেলাইট অপারেটর তৈরি,এসব বিষয়ে পূর্ণ ধারণা, নির্দেশাবলী ও টাইমলাইন দিয়ে পরামর্শ দেয় এবং মধ্যস্থতা করে। BTRC তাদের প্রণীত নির্দেশাবলী ও টাইমলাইন মেনে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

কোন দেশকে স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে হলে তাকে অবশ্যই ITU এর সদস্য হতে হবে। ITU হল ইউনাইটেড ন্যাশনের একটি অঙ্গ সংস্থান যারা গ্লোবালই শেয়ার করা রেডিও স্পেকট্রাম এবং স্যাটেলাইটের অরবিট প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় সাধন করে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ২০১১ সালে ITU সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশ সেইবার ১৬১ টি ভোটের মধ্যে ১২৩ টি ভোট পেয়ে ষষ্ঠ-স্থান অর্জন করেছিল অনেক বড় বড় দেশকে পেছনে ফেলে যেমন অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া এবং থাইল্যান্ড।

সেবার পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা ITU এর সদস্য হতে পারেনি কারণ তারা পেয়েছিল মাত্র ৯৩ এবং ৭৯ টি ভোট। ITU এর সদস্যপদে শুধুমাত্র ৪ বছরের জন্য থাকা যায় এরপর আবার নতুন করে নির্বাচন হয় তখন পুনরায় সদস্য হবার জন্য নির্বাচিত হতে হয়। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ITU এর সদস্যপদে নির্বাচিত হয়। সেবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সাউথ কোরিয়ার বুসানে মোট ১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে থেকে ১৩ জন সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ মোট ১১৫টি ভোট পায় ১৭৬ টির মধ্যে। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯৩ টি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রোগ্রামের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৯৬৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে HSBC ব্যাংক থেকে আর্থিক লোন নেওয়া হয় প্রায় ১৫৮৫ কোটি টাকার মত, বাকি টাকা সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকে বহন করে। এই প্রোগ্রামের এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৭৬৫ কোটি টাকা, ফলে সরকার সাশ্রয় করতে পেরেছে ২০২ কোটি টাকার মত। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন বানাতে থ্যালেস এলিনা স্পেসের সাথে চুক্তি হয়েছে প্রায় ১৯৫১.৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। রাশিয়ার স্পেস বেস স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সার্ভিস অর্গানাইজেশন INTERSPUTNIK থেকে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা কক্ষপথটি ১৫ বছরের জন্য প্রায় ২১৮.৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাড়া নেয়া হয়। বাকি টাকা স্যাটেলাইট শিপমেন্ট, স্পেসে পাঠানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ করা হয়েছে।

অনেক গুলো কোম্পানি বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট তৈরি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, এমন কি ইন্ডিয়াও চেয়েছিল বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি তৈরি করতে। কিন্তু টেন্ডার ছাড়ার পর ৪টি দেশের ৫টি কোম্পানি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে আমেরিকার দুইটি, চায়না, ফ্রান্স এবং কানাডার একটি কোম্পানি। ইন্ডিয়া স্যাটেলাইট তৈরিতে আগ্রহ দেখালেও পরে তারা আর টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করেনি। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্স ভিত্তিক স্পেস টেকনোলজি কোম্পানি থ্যালেস এলিনা স্পেস জানায় যে তারা BTRC র সাথে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি হল মূলত টেলিকমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। থ্যালেস এলিনা স্পেস বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি মূলত বানায় তাদের আগে বানানো মডেল SpaceBus 4000B2 এর উপর। এই পর্যন্ত মোট ৯টি SpaceBus 4000B2 মডেলের স্যাটেলাইট বানানো হয়েছে। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সহ এবং আরও একটি স্যাটেলাইট নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে। SpaceBus 4000B2 বানানো হয়েছে মূলত SpaceBus 3000 মডেলের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু SpaceBus 4000B2 মডেলটি SpaceBus 3000 এর থেকে অনেক উন্নত। এতে সংযুক্ত করা হয়েছে উন্নত এভিওনিক্স সিস্টেম, ভোল্টেজ ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ৫০ থেকে ১০০ ভোল্ট। স্যাটেলাইটটি চলতে ৮ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার প্রয়োজন এবং টোটাল ওজন হল ৩,৫০০ কেজি।

তাছাড়া SpaceBus 4000B2 স্যাটেলাইটটিতে রয়েছে উচ্চতা এবং কক্ষপথ কন্ট্রোল সিস্টেম ও স্টার ট্রাকার্স সিস্টেম, যা স্যাটেলাইটটিকে নিজ কক্ষপথে থাকতে সাহায্য করবে। স্যাটেলাইটটিতে রয়েছে অন বোর্ড কম্পিউটার সিস্টেম, নতুন কমিউনিকেশন সুবিধা ও ব্রডব্যান্ড মাল্টিমিডিয়া সুবিধা। এছাড়া SpaceBus 4000B2 মডেলের স্যাটেলাইটগুলো কমার্শিয়াল ও সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটিতে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার (Transponder)। ট্রান্সপন্ডার (Transponder) হল ইংরেজি শব্দ ট্রান্সমিটার (Transmitter) এবং রেস্পন্ডার (Responder) এর সমন্বয়ে গঠিত। ট্রান্সপন্ডারের (Transponder) কাজ হল লোয়ার ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যালকে হাই ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যালে রূপান্তরিত করে পুনরায় সম্প্রচার করা। ১ ট্রান্সপন্ডার (Transponder) সমান ৩৬ মেগাহার্টজ এবং ডিজাইন ভেদে মেগাহার্জ ধারণ ক্ষমতা কম বা বেশি হতে পারে। ৪০ টি ট্রান্সপন্ডারের (Transponder) মধ্যে ২০ টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে এবং বাকি ২০টি ভাড়া দেওয়া হবে। ২০টি ট্রান্সপন্ডারের (Transponder) মধ্যে ১৮টি হল কমার্শিয়াল ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২ টি হল সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য।

৪০ টি ট্রান্সপন্ডার (Transponder) মধ্যে ১৪ টি হল সি-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সির এবং বাকি ২৬ টি হল কিউ-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সির। সি-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি এবং কিউ-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি দুইটিই ব্যবহার করা হয় স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও সম্প্রচার কাজের জন্য। কিন্তু ভারি বৃষ্টিপাতে কিউ-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি বাধাগ্রস্ত হয় ফলে যোগাযোগ ও সম্প্রচার কাজের বিঘ্ন ঘটে। এর তুলনায় ভারি বৃষ্টিতে সি-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি বাধাগ্রস্ত না হওয়ায় সি-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি খারাপ আবহাওয়াতে ও ভাল কাজ করে, মানে যোগাযোগ ও সম্প্রচার কাজ স্বাভাবিক থাকে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য সি-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সিটি বেশি উপযুক্ত। যেই ২ টি ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে সি-ব্যান্ড দিয়ে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগর, ভারত, মায়ানমার, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান আর কিউ-ব্যান্ড দিয়ে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগর, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনে স্যাটেলাইট সেবা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউরোপ এবং বাকি দেশ গুলোতে স্যাটেলাইট টু স্যাটেলাইট যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে টেলিভিশন সম্প্রচার ও ইন্টারনেট সুবিধা দেবার জন্য BTRC ITU এর সাথে চেষ্টা চালাচ্ছে।

আনুমানিক ২০১৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে থ্যালেস এলিনা স্পেস বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বানানো ও সকল ধরনের পরীক্ষা শেষ করে। তখন থেকে ৩০ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি থ্যালেস এলিনা স্পেসের হ্যাঙ্গারে রাখা ছিল। ৩০ মার্চ ২০১৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি থ্যালেস এলিনা স্পেসের হ্যাঙ্গার থেকে রাশিয়ান কার্গো পরিবহন বিমান Antonob An-124 এ করে নিয়ে আসা হয় ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল এয়ার ফোর্স ষ্টেশনে। সেখান থেকে স্পেস-এক্স এর ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি তার অর-বিটে পাঠানো হবে।

কেপ ক্যানাভেরাল এয়ার ফোর্স ষ্টেশনের লঞ্চ প্যাড 39A বা 40 থেকে আগে ফ্যালকন-হেভি রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল যেটি ছিল ৩ টি বুস্টার বা কোরের রকেট, কিন্তু ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ হল একটি বুস্টার বা কোরের রকেট। এ জন্য লঞ্চ প্যাড 39A বা 40 এর র‍্যাম্পটি পরিবর্তন করে ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেটের জন্য নতুন র‍্যাম্প লাগানো হয়েছে এবং র‍্যাম্পের টেস্ট প্রক্রিয়া ও শেষ হয়েছে।

39A বা 40 লঞ্চ প্যাডটি নাসার কাছ থেকে স্পেস-এক্স ভাড়া নিয়ে রকেট উৎক্ষেপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেটটি হল এখন পর্যন্ত স্পেস-এক্স এর বানানো ফ্যালকন-৯ সিরিজের সবচেয়ে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাহন এবং বঙ্গবন্ধু-১ মিশনই হবে এটার সর্বপ্রথম কমার্শিয়াল ফ্লাইট। এর আগে ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেটটি অনেকবার টেস্ট ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও ফ্লোরিডায় হারিকেন ইরমা আঘাত হানার কারণে ও পরবর্তীতে বন্যা দেখা দিলে উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে মার্চে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া ও লঞ্চ প্যাড রেডি না হওয়ায় আবার উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে এপ্রিলের প্রথম অর্ধাংশে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু আবারও বৈরি আবহাওয়ার কারণে উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে নিয়ে আসা হয় মে মাসের ৪ তারিখে, কিন্তু আবহাওয়ার ভাল না থাকায় আবারো উৎক্ষেপণ পেছানো হয়। অবশেষে ১১ মে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১

বাংলাদেশ সরকার সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখে ছিল উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য। ৪২-জন সদস্যের একটি দল ফ্লোরিডায় যাত্রা করেন উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান দেখবেন ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ের উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন ফ্লোরিডায় কেপ কেনাভেরাল এয়ার ফোর্স ষ্টেশন থেকে। পরবর্তীতে আবারও বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে দমকা হাওয়া বয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকায় উৎক্ষেপণের তারিখ পরিবর্তন করে ৪ মে এর পরিবর্তে ৭ মে করা হয়। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেওয়ায় উৎক্ষেপণের তারিখ আবার ও পেছানো হয়।

স্পেস-এক্স কোনো স্যাটেলাইটকে উৎক্ষেপণ করে দুই স্টেজ বাহন ও তিনবার ইঞ্জিন বুস্টিং এর মাধ্যমে। প্রথম স্টেজের জন্য ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ বুস্টার ব্যবহার করা হবে। বঙ্গবন্ধু-১ মিশনের জন্য ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ এর যেই বুস্টার ব্যবহার করা হবে তা হল কোর-১০৪৬। পরবর্তী মিশনের জন্য ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ কোর-১০৪৭ বুস্টার ব্যবহার করা হবে। এই বুস্টারটি ৯ টি সিঙ্গেল ইঞ্জিনের দ্বারা নির্মিত। এই ইঞ্জিন গুলো হল স্পেস-এক্সের বানানো মার্লিন সিরিজের সব চেয়ে আধুনিক মডেল মার্লিন 1D। উৎক্ষেপণের সময়কে T সময় বলা হয়। T-(মাইনাস) 40 সেকেন্ড মানে হল উৎক্ষেপণ হতে আরও ৪০ সেকেন্ড বাকি আছে। একেবারে T সময়ে বুস্টার চালু হবে এবং উৎক্ষেপণ শুরু হবে। উৎক্ষেপণের পরের সময়কে বলা হয় T+(প্লাস) 40 সেকেন্ড মানে হল উৎক্ষেপণ হয়ে আরও ৪০ সেকেন্ড হয়েছে। ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ কোর-১০৪৬ ৯ টি ইঞ্জিনের বুস্টারটি ব্যবহার করা হয় ম্যাক্সিমাম জি-ফোর্স অতিক্রম করার জন্য এবং প্রায় ৭০ কিলোমিটার উপরে উঠার পর স্টেজ ওয়ান সম্পূর্ণ হয় ও ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ কোর-১০৪৬ বুস্টারটি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে মূল রকেট থেকে বিভক্ত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে পুনরায় ব্যবহারের জন্য। এরপর দ্বিতীয় স্টেজের বুস্টার চালু হয় এবং স্যাটেলাইটসহ সম্পূর্ণ রকেটটিকে পার্কিং অর-বিট এ নিয়ে যায়। দ্বিতীয় স্টেজের বুস্টারটি হল সিঙ্গেল ইঞ্জিনের এবং এটি প্রথম স্টেজের বুস্টার থেকে বেশি সময় চালু থাকে। পার্কিং অর-বিটে যাবার আগে রকেটের কার্গো কম্পার্টমেন্টটি (রকেটের সবচেয়ে উপরের অংশ) খুলে যায় এবং ভিতরে থাকা স্যাটেলাইটটি বাহিরে বের হয়ে আসে। প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উপরে উঠার পর রকেটটি পার্কিং অরবিটে পৌছায় এবং সেকেন্ড স্টেজ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। পার্কিং অরবিট হল যখন কোন স্যাটেলাইট বা অন্য কোন কিছু উৎক্ষেপণ করা হয় তখন কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর নিকটতম একটি অর-বিট এ অবস্থান করে এবং কিছু সময় পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ঘুরতে থাকে তার (স্যাটেলাইটটির) গন্তব্য অর-বিট বা কক্ষপথে যাবার আগ পর্যন্ত।

পরে আবার ১ থেকে ১.৫ মিনিট ইঞ্জিন বুস্ট করে তার গন্তব্য অরবিটে যাবার জন্য। বুস্ট শেষ হবার পর স্যাটেলাইটটি দ্বিতীয় বুস্টার থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং এর সাথে দ্বিতীয় স্টেজের উৎক্ষেপণ শেষ হয়। সম্পূর্ণ উৎক্ষেপণ কাজটি পরিচালনা করা হবে অটো-পাইলটের মাধ্যমে। উৎক্ষেপণের কিছু সময় আগে থেকে স্পেসএক্স এর সুপার-কম্পিউটার উৎক্ষেপণের দায়িত্ব নিবে এবং সুপার-কম্পিউটারটি আগে থেকে গণনা ও পরিকল্পনা করা পথে রকেটি পরিচালনা করবে। সকল কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের গন্তব্য হল জিও-স্টেশনারী অরবিট। এ জন্য এই অর-বিটের স্যাটেলাইটগুলোকেও আমরা জিও-স্টেশনারী স্যাটেলাইটও বলতে পারি। জিও-স্টেশনারী অরবিটটি হল পৃথিবী থেকে ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার দূরে এবং সরাসরি বিষুবরেখা উপরে অবস্থিত এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনের দিকে পৃথিবীর সাথে সুষম গতিতে ঘুরতে থাকে, মানে পৃথিবী থেকে দেখলে স্যাটেলাইটটিকে স্থির মনে হবে।কারন এটি পৃথিবীর গতির সমান গতিতে চলতে থাকে।

জিও-স্টেশনারি অরবিটে পৌঁছাতে স্যাটেলাইটটির ৮ দিন সময় লাগবে। এর মধ্যে স্যাটেলাইটটি কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে। যেমন-

  • ডে – ০
    • স্যাটেলাইটটি প্রথম ট্রাক করা হবে ব্রাজিলের ট্যাং-গুয়া গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন থেকে
    • প্রথম সূর্যরশ্মি গ্রহণ
    • সোলার অ্যারে আংশিকভাবে স্থাপন করবে
  • ডে (১-৭)
    • Apogee Perigee ম্যানুয়েভার। এই ম্যানুয়েভারের মাধ্যমে কোন স্যাটেলাইট বা স্পেস-বাহন তার পজিশন ঠিক করে। তারপর প্রয়োজনমত বুস্ট করে স্যাটেলাইটটির প্রয়োজনীয় গতিবেগ নিয়ে নেয় এবং সবশেষে স্যাটেলাইটটি তার নিজস্ব অরবিটে পোঁছায়।
  • ডে – ৮
    • সোলার অ্যারে সম্পূর্ণভাবে স্থাপন করবে
    • সি-ব্যান্ড প্রতিফলক স্থাপন করবে
    • কিউ-ব্যান্ড প্রতিফলক স্থাপন করবে
    • পৃথিবীর দিকে তার অবস্থান ঠিক করবে
    • সোলার অ্যারে পুনরায় স্থাপন করবে

এইভাবে স্যাটেলাইটটি তার নিজস্ব অরবিটে পৌছাবে ও তার কাজ শুরু করবে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটির সাথে যোগাযোগ এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশে ২ টি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। যার একটি অপারেশনাল এবং অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে থাকবে। অপারেশনাল স্টেশনটি গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং ব্যাকআপ স্টেশনটি রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালীর উপজেলার বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন।যার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটির কক্ষপথটি ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দিকে অবস্থিত। যা বাংলাদেশ থেকে দূরে এবং ইন্দোনেশিয়ার উপরে অবস্থিত। এই জন্য স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আরো ২ টি আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ইন্দোনেশিয়াতে এবং ফিলিপাইনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেহেতু থ্যালেস এলিনা স্পেস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি বানিয়েছে তাই তারাই এর গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন, স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ এবং নেটওয়ার্ক অপারেশনের দায়িত্বে আছে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি ডিজাইন করা হয়েছে ১৫ বছরের জন্য। যদি এটি ভাল ভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে এর সার্ভিস লাইফ আরো ৩ বছরের মত আমরা পেতে পারি। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটির মাধ্যমে ডিরেক্ট টু হোম কানেকশন, VSAT (very small aperture terminal), যোগাযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ই-সেবা, ই-বার্তা, ই-শিক্ষা, টেলি-হসপিটাল এবং আরও অন্যান্য সেবা দেওয়া যাবে। মূলত ডিরেক্ট টু হোম সেবাটির অধিকার বাংলাদশের দুইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যাক্সিমকো এবং বায়ার মিডিয়া লিমিটেড এর কাছে দেওয়া হয়েছে। তার মানে শুধু মাত্র টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেল গুলোর স্যাটেলাইট সেবা এই দুইটি কোম্পানি থেকে নিতে হবে। বাকি আর সব সেবা নিতে হলে BTRC কাছ থেকে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি অপারেশনাল হলে বাংলাদেশের টিভি এবং রেডিও চ্যানেল গুলো বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটির আওতায় চলে আসবে। ফলে দেশের অর্থ দেশেই থাকবে এবং বাড়তি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দেওয়ার কারণে তার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। BTRC বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BCSCL) নামে আলাদা একটি কোম্পানি তৈরি করেছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা দেখাশুনা করার জন্য। BTRC এর হিসাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রোগ্রামে খরচ-কৃত টাকা স্যাটেলাইটটি চালু হবার ৮ বছরের মধ্যে তুলে নিয়ে আসতে পারবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি আকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহারকারীর খাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে। এটির মাধ্যমে ডিজিটাল দেশ গড়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের যোগাযোগ ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থাকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে যাবে। BTRC শুধু বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে শেষ নয় তারা ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু-২ এবং বঙ্গবন্ধু-৩ নামে আরও দুইটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। তাছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন চলছে, যার প্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে তাদের নিজেদের কাজকর্ম সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য সামরিক বাহিনীর জন্য আলাদা স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হতে পারে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট হওয়ায় এবং স্যাটেলাইট বিষয়ে আগে থেকে কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় তুলনামূলক ভাবে খরচ কিছুটা বেশি লেগেছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট গুলো আরো ভাল কনফিগারেশন এবং কম খরচে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *