হার্ডওয়্যার

স্টোরেজ ডিভাইস

June 9, 2018

স্টোরেজ ডিভাইস

স্টোরেজ ডিভাইস হলো কম্পিউটার হার্ডওয়্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কম্পিউটারের যাবতীয় ডেটা সংরক্ষন এবং সংগ্রহের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এই ডিভাইস সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এই ডিভাইস এক্সটার্নাল অথবা ইন্টার্নাল হয় আবার পোর্টেবল হয়। এই ডিভাইস আবার নেটওয়ার্ক কানেক্টেড ও হয়। যাকে আমরা সার্ভার স্টোরেজ সিস্টেম বলি। এই ডিভাইস অনেক রকমের হয়, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক থেকে শুরু করে আপনার মোবাইলের মেমোরি কার্ড পর্যন্ত এগুলো সবই স্টোরেজ ডিভাইস।

আমরা জানলাম যে স্টোরেজ ডিভাইস অনেক রকমের হয় কিন্তু কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম যে স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে ইন্সটল করা হয় সেটা একটু ভিন্ন রকম হয়। যাকে আমরা অনেকেই হার্ডডিস্ক নামে চিনি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল বা ডেটা স্টোরেজের জন্য হার্ডডিস্কের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তাহলে কোন ডিভাইস বর্তমানে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে? আজ আমরা সেটি জানবো। সাথে আরও অনেক কিছু জানবো ও নতুন ধরনের কিছু ডিভাইসের সাথে পরিচিত হব।

অনেকে আবার এই ডিভাইসকে ইনপুট আউটপুট ডিভাইস হিসেবেও মনে করে থাকে। আসলে এগুলো ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নয়। যদিও এরা ইনপুট আউটপুটে সহায়তা করে কিন্তু এগুলো নিজেরা ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে না। ইনপুট আউটপুট ডিভাইস গুলোর সহায়তায় স্টোরেজ ডিভাইসের ভেতর ডাটা সংরক্ষণ করা হয়। এই ডিভাইস হলো এক ধরনের মাধ্যম যা ডেটাকে সংরক্ষণ, পরিবহন বা সঞ্চালনে ব্যবহার করা হয়।

যে কোনো রকমের কম্পিউটিং ডিভাইসের মূল অংশ হচ্ছে স্টোরেজ ডিভাইস। যার মধ্যে সকল ডাটাকে সংরক্ষণ করা হয় সাময়িক বা স্থায়ীভাবে। স্টোরেজ ডিভাইসের সহায়তায় কোন এপ্লিকেশন রান করা হয় অথবা ডেটা আদান প্রদান করা হয়। সব ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস ডেটা প্রসেসিং এ ব্যবহার করা হয় কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা হয় শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট স্টোরেজ ডিভাইসের ভেতরেই। তারমানে প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা স্টোরেজ ডিভাইসের আলাদা আলাদা কাজ রয়েছে। একটির কাজ অন্যটি করতে পারেনা। নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।

স্টোরেজ ডিভাউসের প্রকারভেদ

সকল কম্পিউটার সিস্টেমের স্টোরেজ ডিভাইস সাধারণত দুই রকমের হয় :

  • প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস
  • সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস

প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস

কম্পিউটিং ডিভাইসের ভেতরে সাময়িক ভাবে যে ডিভাইসের ভেতর ডেটা সংরক্ষণ করে রাখা হয় তাকে প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস বলে । অল্প সময়ের জন্য ডেটা স্টোর করে রাখার মত করেই এই ডিভাইসগুলো ডিজাইন করা হয় । একে ব্যবহার করা হয় ডেটা প্রসেসিংয়ের জন্য। এগুলো অনেক দ্রুত গতির কিন্তু পরিমাণে কম হয়। সব থেকে দ্রুত গতিতে এই ডিভাইস গুলোই ডেটা ট্রান্সফার এবং রিড, রাইট করতে পারে। কম্পিউটিং ডিভাইসের সকল প্রকার এপ্লিকেশন রান করার জন্য সহায়তা করা এর মূল কাজ। এছাড়াও মূল স্টোরেজ ডিভাইস থেকে ডেটা সংগ্রহ করে প্রসেসিং সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। ক্যাশ মেমোরি এবং র‍্যাম হল মূলত প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস।

সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস

এগুলো হল স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণকারী ডিভাইস। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি এবং কম দামি। প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের সহায়তায় এই ডিভাইসগুলো ভেতর ডেটা সংরক্ষণ করা হয়। প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের তুলনায় অনেক ধীর গতিসম্পন্ন। এগুলোকে এক্সটারনাল অথবা ইন্টারনাল ডিভাইস আকারে ব্যবহার করা যায় এবং সকল প্রকার এপ্লিকেশন ও অপারেটিং সিস্টেম সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে ইন্সটল করা হয়। পাওয়ার অন করার সাথে সাথে প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইস সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইসের (হার্ডডিস্ক) মধ্যে থেকে অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজনীয় বুট ফাইল নিয়ে প্রসেসিং করার জন্য প্রসেসরে পাঠায় এবং প্রসেসিং সম্পন্ন করে কম্পিউটার সিস্টেমকে চালু করে। এভাবে দুই ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস সমন্বয় করে একটি কম্পিউটার সিস্টেমের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে। USB ডিভাইস, হার্ডডিস্ক, অপটিক্যাল ড্রাইভ ডিস্ক এগুলো হল সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস।

আকৃতি, ব্যবহারের গতি এবং ধরনের উপর ভিত্তি করে সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস তিন রকমের হয়,

  • ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস
  • অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস
  • ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস

ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস

এগুলো সব চাইতে বেশি জনপ্রিয় এবং পরিচিত ডিভাইস। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি কিন্তু তুলনামূলক ভাবে কম গতিসম্পন্ন। এর মধ্যে কিছু কিছু ডিভাইস ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। আমাদের সকলের পরিচিত হার্ডডিস্ক জিনিসটিও ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস। দামে অনেক সস্তা যার জন্য জনপ্রিয়তা বেশি পেয়েছে। এ প্রযুক্তির সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে হার্ডডিস্ক ড্রাইভ এবং হাইব্রিড হার্ডডিস্ক ড্রাইভে।

কিছু ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস,

  • Floppy diskette
  • Hard drive
  • Magnetic strip
  • SuperDisk
  • Tape cassette
  • Zip diskette
কম্পিউটার ভাইরাস

ভাইসার কি এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন
ভাইসার কি?

অপটিকাল স্টোরেজ ডিভাইস

অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস

আমাদের সকলের পরিচিত আরেকটি ডিভাইস হলো অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস মানে সিডি অথবা ডিভিডি। অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসে লেজারের আলো ব্যবহারের মাধ্যমে ডাটা রিড এবং রাইট করে থাকে। এখনো এগুলো অনেক সহজলভ্য এবং দামে সস্তা।

কিছু অপটিক্যাল ডিভাইস,

  • Blu-ray disc
  • CD-ROM disc
  • CD-R and CD-RW disc.
  • DVD-R, DVD+R, DVD-RW, and DVD+RW disc.

ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস

এটি নতুন প্রযুক্তির ডিভাইস। আমরা অনেকেই এর সাথে পরিচিত এবং ব্যবহার করি। এগুলো অনেক উচ্চ গতি সম্পন্ন এবং ম্যাগনেটিক ও অপটিক্যাল ডিভাইসের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল।কিন্তু এর ব্যবহার অনেক বেশি সুবিধাজনক হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এর মূল্য আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে।এগুলো ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে ম্যাগনেটিক এবং অপটিক্যাল ডিভাইসের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিছু ফ্লাশ স্টোরেজ ডিভাইসের মূল্য অত্যধিক হওয়ায় অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারী এখন পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করেন না। যেমন সলিড স্টেট ড্রাইভ বা SSD।

কিছু ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস

  • USB flash drive, jump drive, or thumb drive.
  • CF (CompactFlash)
  • Memory card
  • SSD
  • NVMe SSD
  • Cache Memory SSD (intel optane)

প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার জন্য আর এক ধরনের স্টোরেজ মাধ্যমের আমরা পরিচিতি পেয়েছি। সেটি হল অনলাইন এবং ক্লাউড স্টোরেজ। আমরা কম্পিউটারের ভেতরে থাকা স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে ডেটা সংরক্ষণ করার সাথে পরিচিত। কিন্তু এখন আমরা চাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে থাকা স্টোরেজ ডিভাইসের ভেতরে আমাদের প্রয়োজনীয় ডেটাকে সংরক্ষণ করতে পারি এবং তা ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কোন সময় সেই ডেটা সমূহকে ব্যবহার করতে পারি। ডেটার এই ধরনের সংরক্ষণ করা এবং ব্যবহার করার পদ্ধতিকে ক্লাউড স্টোরেজ-সিস্টেম বলে। যেমন গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স, মেগা ক্লাউড ইত্যাদি। সকল স্টোরেজ ডিভাইসের চাইতে ক্লাউড স্টোরেজ অনেক বেশি ব্যয়বহুল। কিছু কিছু ক্লাউড স্টোরেজ সিস্টেম কোম্পানি তাদের ড্রাইভ সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য খুব কম পরিমাণ ধারন ক্ষমতার ডেটা সংরক্ষণ করার জায়গা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। যদি তাদের থেকে আরও বেশি স্টোরেজ আমরা ব্যবহার করতে চাই তাহলে তাদেরকে অনেক বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে।

প্রসেসর কিভাবে কাজ করে

প্রসেসর কিভাবে কাজ করে জানতে দেখুন
প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

SSD NVMe SSD কি

শুরুতেই বলেছিলাম আজকে আমরা নতুন ডিভাইসের সাথে পরিচিত হব। আমরা অনেকেই SSD NVMe SSD সম্পর্কে জানি। যারা জানি না তাদের জন্য এই অংশটি।

আগেই বলেছি এই ডিভাইস ৩ রকমের হয়। যার মধ্যে ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস একটি। SSD ও NVMe SSD হচ্ছে ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস। এর মধ্যে হার্ডডিস্ক ড্রাইভের মত কোন ঘুরতে থাকা ডিস্ক থাকে না। ডিস্কের পরিবর্তে এর মধ্যে থাকে NAND ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ। আর এই চিপকে নিয়ন্ত্রণ করে মেমোরি চিপ কন্ট্রোলার (Flash Controller)। মেমোরি চিপের মধ্যে কন্ট্রোলার দ্বারা ডেটা জমা করা হয়। কন্ট্রোলারের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে এসএসডির ডেটা রিড ও রাইট ক্ষমতা।

হার্ডডিস্ক ড্রাইভের ডেটা রিড রাইট পদ্ধতি অবশ্যই এসএসডির মতো না।হার্ডডিস্ক ডেটা রিড রাইট হার্ডডিস্কের ভিতর ঘুরতে থাকা ডিস্কের মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যাল মোটর চালিত আর্ম দ্বারা করে থাকে। এই আর্মটিকে বলা হয় Actuator। ম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে একচুয়াটর দ্বারা ডেটা স্টোর করা হয়। অপরদিকে এসএসডিতে সিলিকন দ্বারা নির্মিত মেমোরি চিপের মধ্যে ডেটা স্টোর করা হয়।যা স্বাভাবিক ভাবেই হার্ডডিস্কের নড়তে থাকা মেকানিক্যাল ডিস্কের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতির।

এসএসডির ডেটা স্টোরেজের গতি সাধারণ হার্ডডিস্কের তুলনায় কয়েক গুন বেশি হয়। সাধারণ হার্ডডিস্ক প্রতি সেকেন্ডে 70-90Mbps হারে ডেটা স্টোর করতে পারে। আর একটি সাধারণ এসএসডি পারে 500Mbps এর থেকেও বেশি গতিতে।প্রতিদিনের কাজের জন্য এই গতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন গতি আমাদের কম্পিউটারে কাজ করার সুবিধা বৃদ্ধি করে আর অনেক সময় বাঁচায়।

এতক্ষণ জানলাম এসএসডি সম্পর্কে। এবার জানব এসএসডি ধরন সম্পর্কে। এসএসডি দুই রকমের হয়। একটি Volatile অন্যটি Non-Volatile। এসএসডির কম্পিউটার সিস্টেমের সাথে সংযোগের ভিন্ন মাধ্যম আছে। এর মধ্যে একটি হল SATA অন্যটি PCIe.

PCIe নির্ভর এসএসডি SATA সংযোগ নির্ভর এসএসডির তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল হয়। সাধারণ এসএসডির থেকে এর গতি কয়েকগুণ বেশি। 2Gbps থেকে 3.5Gbps পর্যন্ত হয়। এর ভিতর ব্যবহার করা মেমোরি চিপ ও সাধারণ এসএসডির থেকে ভিন্ন। PCIe নির্ভর এসএসডির মধ্যে একটি বহুল পরিচিত এসএসডি হল NVMe বা non-volatile memory express.

SATA এবং NVMe এসএসডি সম্পর্কে আরও অনেক বিস্তারিত জানব আমরা। জানব কিভাবে এগুলো কাজ করে, আরও জানব কম্পিউটার কিভাবে স্টোরেজ ডিভাইসের ভিতরে ডেটা স্টোর করে, আমাদের পরবর্তী ব্লগে।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলেও আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

Reference

Computer data storage, storage device, types of storage

different types of computer storage devices

removable storage, primary and secondary storage

ssd vs hdd whats the difference,

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *