মহাকাশ ও বিজ্ঞান

ব্ল্যাকহোলের আদ্যোপান্ত

April 5, 2019

ব্ল্যাকহোলের আদ্যোপান্ত

বিজ্ঞান নিয়ে যদি আপনার আগ্রহ থেকে থাকে এবং বিজ্ঞানের নানাবিধ আবিষ্কার সম্পর্কে যদি আপনি জানার চেষ্টা করে থাকেন কিংবা শুধুমাত্র যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উদ্দেশ্য যদি আপনি বহির বিশ্বে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো সম্পর্কে নিজেকে অবগত রাখেন, তাহলে ব্ল্যাকহোল নামটি আপনার অবশ্যই শোনার কথা। আপনি যদি সিনেমা প্রেমী হয়ে থাকেন, বিশেষ করে সাইন্স ফিকশন সিনেমা গুলো, তাহলে তো ব্ল্যাকহোল আপনার কাছে খুবই পরিচিত হওয়ার কথা। ২০১৪ সালের ক্রিস্টোফার নোলানের সাড়া জাগানো সিনেমা ইন্টারস্টেলার এর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ব্ল্যাকহোল নামের এই চমকপ্রদ বিষয়টি। এরকম সিনেমা গুলোতে আমরা দেখে আসছি যে ব্ল্যাকহোল হচ্ছে কালো একটি বস্তু যার বিচরণ থাকে মহাকাশের বিভিন্ন জায়গায়। বস্তুটির ধারে কাছে কোন কিছু গিয়ে আর ফিরে আসতে পারে না। বস্তুটিকে অতিক্রম করার সময় কোথায় যেন হারিয়ে যায় সবকিছু। ক্রিস্টোফার নোলানের ইন্টারস্টেলার সিনেমাটিতে এই ধারণাটিকে নিয়ে যাওয়া হয় গভীর থেকে গভীরে।

এতদিন আমাদের ধারণা ছিল ব্ল্যাকহোলের বাইরে কি কি হয়, সিনেমাটিতে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয় যে ব্ল্যাকহোলের ভিতর আসলে কি হয়। সাইন্স ফিকশন সিনেমা বলে এর মধ্যে দেখানো সবকিছুর সত্যতা না থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটি কাজ সিনেমাটি খুব সফলভাবে সম্পাদন করেছে, আর সেটি হচ্ছে সাধারণ দর্শকদের মাঝে ব্ল্যাকহোল নিয়ে তুমুল আগ্রহের সৃষ্টি করেছে এটি। ব্ল্যাকহোল নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আগ্রহ মেটাতে এই ব্লগটি লেখা। এখানে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করেছি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্ল্যাকহোলের প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি সম্পর্কে। চলুন জেনে নেই সাইন্স ফিকশন সিনেমা থেকে দেখে আসা ব্ল্যাকহোল বাস্তবে আসলে কি, কেনই বা রয়েছে এটি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে, কি কি বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি মহাকাশের অন্যান্য বস্তুগুলো থেকে অনেকটা ব্যতিক্রম।

ব্ল্যাকহোল কী?

ব্ল্যাকহোলের প্রথম প্রেডিকশন দেয়া হয় আইনস্টাইনের থিওরি অফ জেনারেল রিলেটিভিটিতে। থিউরিটিতে মহাকর্ষ বলকে কল্পনা করা হয়েছে ভর এবং শক্তি দ্বারা স্পেস এবং সময়ের একটি পাক হিসেবে। এই থিউরিটির সমীকরণটি তে প্রেডিক্ট করা হয়েছিল যে একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যখন অতিরিক্ত ভর অথবা শক্তি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা হয়, তখন স্পেস এবং সময়ের পতন ঘটে। এই ঘটনাটির ফলে তৈরি হয় একটি সিংক হোল, যাতে আলো এবং বস্তু প্রবেশ করতে পারি ঠিকই কিন্তু এর থেকে বের হতে পারে না।

প্রথম প্রথম এই তত্ত্বটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অংশ হিসেবে না ধরে গাণিতিক ত্রুটি কিংবা অস্বাভাবিকতা হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু গত শতকে প্রচুর পরিমাণে প্রমাণের দেখা মেলাতে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছেন যে ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব আসলেও রয়েছে।

ব্ল্যাক হোলের প্রান্তটিকে বলা হয় ইভেন্ট হরাইজন। ব্ল্যাকহোলের এই প্রান্তটিকে অতিক্রম করতে হলে সেই বস্তুটিকে হতে হবে আলোর গতির চেয়েও দ্রুতগামী। এখন পর্যন্ত আলোর চেয়ে দ্রুতগামী কিছু আবিষ্কার হয়নি বলে আমরা ধরেই নিতে পারি যে ব্ল্যাকহোলের প্রান্ত থেকে ফিরে আসার কোন পথ নেই। ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ঘিরে রয়েছে অ্যাক্রেশন ডিস্ক। ডিস্ক টি তৈরি হয়েছে ধুলা এবং গ্যাস দ্বারা। এই ডিস্ক টি তার কক্ষপথে আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে ঘুরতে থাকে। এই বস্তুগুলোর কিছু অংশ শক্তিশালী রেডিয়েশন হিসেবে নির্গত হলেও অধিকাংশের যাত্রাই বিস্মৃতির দিকে।

প্রতিটি ব্ল্যাকহোলের একদম মধ্যখানে সিঙ্গুলারিটি নামে একটি জায়গা থাকে। এইখানে ব্ল্যাকহোলের ঘনত্ব অসীম ভাবে সংকুচিত অবস্থায় থাকে অসীম রকমের ক্ষুদ্র একটি জায়গাতে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাকর্ষের শক্তিশালী কিছু কূপ। বিগ ব্যাং এর পরপরই এগুলোর অস্তিত্ব শুরু হবে বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন তারার পতনের ফলেও এগুলোর সৃষ্টি হয়।

ব্ল্যাকহোল নিয়ে গবেষণার ইতিহাস

ভূতত্ত্ববিদ জন মিচেল ব্ল্যাকহোলের প্রাথমিক ধারণা সর্বপ্রথম প্রদান করেন। তিনি ব্ল্যাকহোলকে ব্যাখ্যা করেন বিপুল ভর বিশিষ্ট একটি বস্তু দ্বারা যার মহাকর্ষ বলের প্রভাবে আলোক তরঙ্গ পর্যন্ত এর থেকে বের হতে পারে না। রয়েল সোসাইটির সদস্য এবং বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিসকে ১৭৮৩ সালে লেখা একটি চিঠিতে জন মিচেল এগুলো জানান। গণিতবিদ পিয়েরে সিমন ল্যাপলেস ১৭৯৬ সালে তার লেখা বিখ্যাত এক বইয়ের প্রথম এবং দ্বিতীয় সংস্করণে জন মিচেলের মতোই একটি মতবাদ প্রদান করেন। যদিও বইটির পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে এই ধারণা গুলো রাখা হয়নি। ব্ল্যাকহোল সম্পর্কিত এই ধরনের মতবাদ গুলো ঊনবিংশ শতাব্দীতে পুনরায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। কারণ আলোর মতো একটি ভরেন তরঙ্গ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা কেন এবং কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে সেটি মানুষের বোধগম্য ছিল না।

থিওরি অফ জেনারেল রিলেটিভিটি

বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন হাজার ১৯১৫ সালে তার বিখ্যাত থিউরি অফ জেনারেল রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রদান করেন। মূলত এই তত্ত্বটি ব্ল্যাকহোল নিয়ে গবেষণায় সূচনা করে নতুন এক দিগন্তের। এই তত্ত্ব টির আগে আলোর তরঙ্গকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যে প্রভাব করতে পারে তার প্রমাণ থাকলেও তত্ত্ব টি দ্বারা সেই প্রমাণ টি আরো শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায়। এর কিছু মাস পরে শোয়ার্জচাইল্ড আইনস্টাইন ফিল্ড ইকুয়েশনের একটি সমাধান বের করেন যেটি বিন্দু ভর এবং গোলীয় ভোরের মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র সম্বন্ধে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। বিজ্ঞানী হেনড্রিক লরেঞ্জের ছাত্র জোহান্নেস ড্রস্ট স্বাধীন আরেক গবেষণায় আইনস্টাইন ইকুয়েশন ফিল্ডের একই রকম আরেকটি সমাধান বের করেন এবং বিন্দু এবং গোলীয় ভরের মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের ধর্ম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

শোয়ার্জচাইল্ডের এই সমাধানটির আচরণ ছিল কিছুটা বিচিত্র। এই বিচিত্র আচরণটিকে বলা হয়ে থাকে শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াস। এখানে সবকিছু সিঙ্গুলার হয়ে যায় অর্থাৎ আইনস্টাইনের ইকুয়েশনের কিছু কিছু টার্ম অসীমে পরিণত হয়ে যায়। ওপেনহাইমার এবং তাদের সহযোগীরা এই সিঙ্গুলারিটির একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াসের প্রান্ত গুলোতে সিঙ্গুলারিটি এমন ভাবে কাজ করে যেন প্রান্ত গুলো একটি বাবলের বাউন্ডারি যেখানে সময় স্থির। সময় স্থির এর ব্যাপারটি বাহ্যিক কোন পরিদর্শকের জন্য সত্য। কিন্তু ব্ল্যাকহোলের দিকে পড়তে থাকা অবস্থায় কোন পরিদর্শকের জন্য ব্যাপারটি কিছুটা ভিন্ন। পতিত হওয়া তারা গুলোর এই গুণাবলীর কারণে এদের “ফ্রজেন স্টার” বলা হয়ে থাকে। কারণ যখন কোন বস্তু শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াসের ভিতর চলে যায় তখন বাহ্যিক পরিদর্শকের কাছে তারাটির সারফেসের সময় ফ্রজেন মনে হবে। অর্থাৎ তার কাছে সময় থাকবে স্থির।

১৯৫৮ সালে ডেভিড ফিনকেলস্টাইন শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াসকে ইভেন্ট হরাইজন নাম প্রদান করেন। তিনি এটিকে একটি একমুখী পর্দা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন যার মধ্য দিয়ে যেকোনো কিছু শুধুমাত্র একমুখী ভাবে অতিক্রম করতে পারে। জেনারেল রিলেটিভিটি এর স্বর্ণযুগে এসে ব্ল্যাকহোল হয়ে উঠেছিল গবেষণার মেইনস্ট্রিম একটি বিষয়। কিন্তু যোসেলিন বেল বার্নেল দ্বারা পালসার এর আবিষ্কারের পর ব্ল্যাকহোল, নিউট্রন স্টার এর তত্ত্বগুলো বাস্তবে অস্তিত্বের সম্ভাবনার মুখ দেখতে পায়। জন মিচেল এই পতিত তারা গুলোকে ডার্ক স্টার নামে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে হুইলার তার এক শিক্ষার্থী থেকে ব্ল্যাকহোল নামটি শুনে এর এডভারটাইজিং ভ্যালুর জন্য নামটির ব্যবহার শুরু করে দেন।

ব্ল্যাকহোলের গঠন

বিভিন্নভাবে একটি ব্ল্যাকহোলের সৃষ্টি সম্ভব হলেও স্বাভাবিকভাবে নক্ষত্র চুপসে যাওয়ার ফলে সেগুলো পরিণত হয় ব্ল্যাকহোল এ। আমাদের সবচেয়ে কাছের বিশাল আকার নক্ষত্র হচ্ছে সূর্য। এর বিস্তৃতি প্রায় ১৩০ কোটি কিলোমিটার। এর ভর প্রায় ২*১০^৩ কিলোগ্রামের কাছাকাছি। নক্ষত্র গুলোর এরকম অস্বাভাবিক ঝড়ের কারণে এদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ও অনেক শক্তিশালী। ফলে গোটা সৌরজগৎকে সূর্য নামে নক্ষত্রটি তার আশেপাশের কক্ষপথে ঘোরাতে সক্ষম। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাথে ভরের যে সম্পর্ক সেটি মহাকর্ষ সূত্র দ্বারা সহজেই বুঝা যায়। সূত্র অনুযায়ী মহাকর্ষ দুটি বস্তুর ভরের গুণফলের সাথে মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের গুণফলকে যদি বস্তু দুটির কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গ দ্বারা ভাগ করা হয় তাহলে যেটি পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে মহাকর্ষ বল এর পরিমাপ।

এখন চিন্তা করুন যদি এদের মাঝে একটি বস্তু তার বাহ্যিক প্রবল তাপমাত্রার ফলে সৃষ্ট দারুণ শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে চুপসে যেতে শুরু করে তাহলে কি হবে?

যেটি হবে সেটি হচ্ছে চুপসে যাওয়া সেই বস্তুর সাথে দ্বিতীয় আর একটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক কমে যাবে কিন্তু বস্তুটির ভর সেই আগের মতই বিশাল অঙ্কের হবে এবং তাদের মাঝে মহাকর্ষ বলের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। তবে নক্ষত্র চুপসে গেলেই সেটি ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয় না। ব্ল্যাকহোলে পরিণত হওয়ার জন্য নক্ষত্রটিকে ধারণ করতে হবে একটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ। এই ব্যাসার্ধের পরিমাণ টিকেই বলা হয়ে থাকে শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াস। শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াসের নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ টি যদি কোন চুপসে যাওয়া নক্ষত্র অর্জন করতে পারে তাহলে সেটি অর্জন করবে ব্ল্যাকহোল হওয়ার মুখ্য গুণাবলী।

ব্ল্যাকহোলের বৈশিষ্ট্য

ব্ল্যাক হোলের কিছু বিশেষ এবং ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেটি মহাকাশের অন্যান্য সৃষ্টি গুলো থেকে একে আলাদা একটি স্থান দিয়েছে। চলুন জেনে নেই সেই বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে।

ইভেন্ট হরাইজন

থিওরি অফ জেনারেল রিলেটিভিটি অর্থাৎ সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মতে ইভেন্ট হরাইজন কিংবা ঘটনা দিগন্তকে বলা যায় প্রত্যাবর্তনের শেষ বিন্দু। এই বিন্দুতে মহাকর্ষ শক্তি এতটাই শক্তিশালী যে কোন বস্তুর পক্ষে এখান থেকে ফেরত আসা একেবারেই অসম্ভব। এটি আলোর ক্ষেত্রেও সত্য। ইভেন্ট হরাইজন হচ্ছে কোন একটি ঘটনার স্থান এবং কালের সীমানা যার বাইরে অবস্থিত পর্যবেক্ষকের উপর এর কোন প্রভাব পড়ে না। এই ইভেন্ট হরাইজনের অবস্থান হচ্ছে ব্ল্যাকহোলের চারপাশ ঘিরে। ইভেন্ট হরাইজনের কারণেই ব্ল্যাকহোলকে দেখতে কালো মনে হয়। কারণ ব্ল্যাকহোলের ভেতর থেকে আলো নিক্ষিপ্ত হয় পর্যবেক্ষকের কাছে পৌঁছতে পারে না। সেটি আবার ব্ল্যাকহোল এই ফেরত চলে যায়।

ব্ল্যাক হোলের দিকে গমনকারী কোন কণা ইভেন্ট হরাইজন অতিক্রম করার সময় বাহিরে অবস্থিত কোন পর্যবেক্ষকের কাছে মনে হবে কণাটি যেন আস্তে আস্তে ধীর গতির হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে ইভেন্ট হরাইজনে স্থান এবং কাল পর্যবেক্ষকের জন্য ফ্রজেন অবস্থায় থাকে। কিন্তু পর্যবেক্ষক যদি নিজেই ব্ল্যাকহোলের দিকে গমন করতে থাকেন এবং ইভেন্ট হরাইজন অতিক্রম করতে থাকেন তাহলে তিনি বাহিরে অবস্থিত পর্যবেক্ষকের মত এরকম কিছু দেখতে পাবেন না। কারণ তার কাছে তার নিজের সময় স্বাভাবিক মনে হবে। যদি ব্ল্যাকহোল টি ঘূর্ণন রত অবস্থায় থাকে তাহলে ইভেন্ট হরাইজনের আকার হবে কমলাকার। আর যদি ব্ল্যাকহোল টি স্থির প্রকৃতির হয়ে থাকে তবে ইভেন্ট হরাইজনের আকার হবে অনেকটা গোলাকার।

সিঙ্গুলারিটি

ব্ল্যাক হোলের কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মতে থাকে গ্র্যাভিটেশনাল সিঙ্গুলারিটি। এই বিন্দুতে স্পেস-টাইম কার্ভেচার অসীমে পরিণত হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সিঙ্গুলারিটির এলাকার আয়তন শূন্য কিন্তু ঘনত্ব প্রায় অসীম। এর কারণ হচ্ছে প্রায় পুরো ব্ল্যাকহোলের ভর তার সিঙ্গুলারিটিতেই জমা হয়ে থাকে। যদি কোন পরিদর্শক শোয়ার্জচাইল্ড রেডিয়াসের ভিতরে ঢুকে যায় এবং ব্ল্যাকহোলের দিকে যাত্রা করতে থাকে তাহলে সে ধীরে ধীরে সিঙ্গুলারিটি তে পতিত হবে এবং ব্ল্যাকহোলের ভরের সাথে একাকার হয়ে যাবে। যদিও সিঙ্গুলারিটি পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বেই অতিরিক্ত শক্তিশালী মহাকর্ষ বলের কারণে পরিদর্শকের দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সেখানে মহাকর্ষ বল এতটাই শক্তিশালী যে ব্ল্যাকহোলের দিকে গমন করার সময় আপনার শরীরের একটি অংশ যদি আরেকটি অংশ থেকে ব্ল্যাকহোলের অল্প একটুও কাছে থাকে তাহলে সেই অংশটি অনেক বেশি টান অনুভব করবে এবং বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করবে।

ফোটন মন্ডল

ব্ল্যাকহোলের আশেপাশে গোলাকার একটি বাউন্ডারি রয়েছে যাতে ফোটন কণা একটি কক্ষ পথ ধরে ঘুরতে থাকে। যদি আলো এই ফোটন মণ্ডলে ইনবাউন্ড ট্রাজেক্টরি তে প্রবেশ করে তাহলে সেটি আর বের হতে পারে না। বাহিরে অবস্থিত কোন দর্শকের কাছে যদি ব্ল্যাকহোল থেকে কোন আলো পৌঁছায় তবে ধরে নিতে হবে সেই আলো ফোটন মণ্ডল এবং ইভেন্ট হরাইজনের মধ্যবর্তী কোন বস্তু থেকে নির্গত হয়েছে।

আর্গো মন্ডল

ঘূর্ণনরত ব্ল্যাকহোলের চারপাশে আর্গো মণ্ডল নামে একটি স্পেস টাইম এলাকা রয়েছে যেখানে স্থির থাকা অসম্ভব। ঘূর্ণনরত যেকোনো বস্তুর চারপাশে স্পেস টাইম সবসময়ই টান অনুভব করে। আর্গো মণ্ডল এও ব্যাপারটা একই রকম। এই মণ্ডল থেকে বস্তু এবং রেডিয়েশন বের হতে পারে।

ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি এবং বৃদ্ধি

ব্ল্যাক হোল বিভিন্ন ভাবে সৃষ্টি হতে পারে। কোন বস্তুর ভিতরগত চাপ যদি তার অভিকর্ষ বলকে বাধা দেয়ার মত যথেষ্ট শক্তিশালী না হয়ে থাকে তাহলে বস্তুটি চুপসে যায় এবং এর ফলে তৈরি হতে পারে ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোলের সৃষ্টি সম্বন্ধে আর একটি ভিন্ন মত রয়েছে। সেটি হচ্ছে বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় সূচনা হয়েছিল ব্ল্যাকহোলের। বিগ ব্যাং হচ্ছে একটি বিশাল আকার বিস্ফোরণ। আমাদের আশেপাশের পরিচিত মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের ছিল একটি কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত। এই কেন্দ্রটি একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে যায়। এই বিশাল এলাকাটি হচ্ছে আমাদের মহাবিশ্ব। অর্থাৎ মহা বিশ্বে যা কিছু রয়েছে তার সৃষ্টির মূলে রয়েছে বিগ ব্যাং। বিগ ব্যাং থিওরি প্রদান করেন প্রয়াত স্টিফেন হকিং। ধারণা করা হয় এই বিগ ব্যাং থেকেই প্রাথমিক ব্ল্যাকহোল গুলোর সৃষ্টি হয়েছিল। প্রচুর শক্তিশালী সংঘর্ষের ফলে ও সৃষ্টি হতে পারে ব্ল্যাকহোল এর। একবার ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়ে গেলে সেটি তার আশেপাশের বিভিন্ন বস্তুকে মহাকর্ষ বল দ্বারা নিজের কাছে টেনে নিজের ভর আরো বাড়াতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে ব্ল্যাকহোলের বিকাশ ঘটে।

আশা করি ব্ল্যাকহোল নিয়ে আপনাদের সকল কৌতূহল মেটাতে সমর্থ হয়েছে ব্লগটি। ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি প্রকাশ করা হয়েছে এবছরের এপ্রিলের ১০ তারিখ। সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে আমাদের আর একটি চমকপ্রদ ব্লগে। সে সম্পর্কে জানতে ঘুরে আসুন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

Reference:
Wiki, Hawking.org.uk

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *