হার্ডওয়্যার

ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর

April 16, 2019

ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর

প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয় এবং নতুনত্বের ছোঁয়া লাগে। নতুন প্রযুক্তির উদ্ভব হয় আর তা আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত জিনিসের সাথে যুক্ত হয়ে আমাদের সকল কাজকে সহজ করে তোলে। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন এবং নতুন প্রযুক্তির উৎকর্ষতা কখনই শেষ হবে না। বিগত দুই দশকে প্রযুক্তির জগতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের যোগাযোগের নতুন মাধ্যম উদ্ভাবন হয়েছে এবং তা অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে। স্মার্টফোন এখন আমাদের প্রতিদিনের অপরিহার্য জিনিসে পরিণত হয়েছে। সাধারণ যোগাযোগ করা ছাড়াও আমরা স্মার্টফোন দিয়ে অনেক কাজ করে থাকি। ছবি, মিডিয়া ফাইল, অর্থ লেনদেন, কেনাকাটা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা ও আদান প্রদান করা এখন আমরা স্মার্টফোন দ্বারা করে থাকি। যখন আমরা একটি ডিভাইসকে এত সব কাজে ব্যবহার করি তখনই আসে এই ডিভাইসের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। কতখানি নিরাপদ রাখতে পারছি আমরা আমাদের তথ্য সমূহকে? তাই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এবং স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত নতুন সব পদ্ধতি উদ্ভাবন করে চলেছে স্মার্টফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। পাসওয়ার্ড আর পিন কোড ব্যবহারের সাথে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের নিরাপত্তার জন্য এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ ও ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করা হচ্ছে। পূর্বে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কম্পিউটারের সিকিউরিটি সিস্টেমে ব্যবহার করা হতো, যা এখন মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা সকল বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেমেই কিছু সমস্যা আর কিছু ভাল দিক থাকে। তাই সমস্যা সমূহকে দূর করে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি?

আমাদের আঙ্গুলের অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতির ভাঁজ রয়েছে। যা আমরা সবাই দেখতে পাই। যখন কোন কিছুতে আমরা হাত রাখি বা হাতে কোন কিছু নেই তখন সে বস্তুতে আমাদের আঙ্গুলের ছাপ পড়ে। এই ছাপকেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট বলে। প্রত্যেক মানুষের আঙ্গুলের ভাঁজ ভিন্ন রকমের হয়। কারো সাথে কারো এই ভাঁজের মিল থাকে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট যখন সনাক্ত করা হয় তখন এই ভাঁজ সমূহের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা হয়। শুরুতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অপরাধী নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক কাজে ব্যবহার করা হতো। এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তির আধুনিকতায় এখন ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের দ্বারা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ণয় করা হয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ণয়ের জন্য যে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা হয় তাকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বা রিডার বলে। নিরাপত্তার জন্য পিন কোড আর পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সাথে বায়োমেট্রিক সিস্টেমে সর্বপ্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করা হয়। এরপরে আসে ফেসিয়াল রিকগনিশন। মোবাইল ফোনে প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয় ২০০৪ সালে। দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানি Pantech তাদের GI100 ফোনে সর্ব প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে। GI100 এ ব্যবহার করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি তেমন উন্নত ছিলনা। যদিও আমরা অনেকেই জানি অ্যাপলই প্রথম তাদের iPhone 5s এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যেটি আসলে আমাদের ভুল ধারনা। অ্যাপল আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটায়। অ্যাপল তাদের ফোনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এরপরে থেকে অন্য সকল কোম্পানি তাদের মোবাইল ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার শুরু করে।

মোবাইল ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ণয়ের জন্য যে রিডার বা সেন্সর ব্যবহার করা হয় তা ৩ রকমের হয়।

  • ক্যাপাসিটিভ সেন্সর
  • অপ্টিক্যাল সেন্সর
  • আলট্রাসনিক সেন্সর

ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি?

মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার বা সেন্সর মোবাইল ফোনের পিছনে ও হোম বাটনে দেখে আমরা অভ্যস্ত। সামনে পিছনে দুই দিকে এই স্ক্যানার বসানোর কিছু সুবিধা অসুবিধা রয়েছে। পিছনে থাকলে টেবিলের উপর থাকা অবস্থায় ফোনের লক খোলা সমস্যা। আবার সামনে স্ক্যানার থাকলে ফোনের বডি Bezel Less ডিজাইন করা সম্ভব না। তাই স্ক্যানারের জন্য সব থেকে উপযুক্ত স্থান হচ্ছে ডিসপ্লের নিচে।

ভাবতেই কেমন অবাক লাগে তাই না? ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার তাও আবার ডিসপ্লের নিচে? ফোন কি ঠিক আগের মতো হাতের আঙ্গুলের ছাপ নির্ভুল ভাবে চিনে নিবে?

হ্যাঁ ঠিকই চিনে নিবে। অবাক করার মতো বিষয় হলেও জিনিসটা একদম সহজ। ডিসপ্লের নিচে কাজ করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট আগের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো করেই একই পদ্ধতি আর অ্যালগরিদম ব্যবহার করে আঙ্গুলের ছাপ সনাক্ত করবে আর ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পূর্বে ফোনের পিছনে, সামনে আর পাশে ব্যবহার করা স্ক্যানার গুলো ছিল ক্যাপাসিটিভ সেন্সর। ৩ ধরনের যে স্ক্যানার পরিচিতি এর আগে দিয়েছিলাম এর মধ্যে ক্যাপাসিটিভ একটি। ডিসপ্লের নিচে এই সেন্সর কাজ করবে না। কারণ এই সেন্সরের কাজ করার জন্য সরাসরি আঙ্গুলের স্পর্শ সেন্সরের উপর পড়তে হবে। তাই সরাসরি স্পর্শ করতে হয় না এমন সেন্সরের ব্যবহার করতে হবে ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য।

অপটিক্যাল আর আলট্রাসনিক সেন্সর এই সমস্যার সমাধান। এই দুই সেন্সর আঙ্গুলের হাই রেজুলেশন ছবি তুলে থাকে। তারপর বিশেষ অ্যালগরিদম দ্বারা এই ছবির 2D জ্যামিতিক ম্যাপ তৈরি করে। ছবির ম্যাপে শুধু মাত্র আঙ্গুলের ছাপের ভাঁজ সমূহ থাকে। প্রত্যেক ভাঁজের হাই কোয়ালিটি ডিটেইল থাকে। অ্যালগরিদম দ্বারা প্রত্যেক ভাঁজের মাঝে পার্থক্য আলাদা করে রাখা হয়। যাতে ফোনের মূল ব্যবহারকারী ব্যতীত অন্য কেউ লক খোলার চেষ্টা করলে তার আঙ্গুলের ছাপ সনাক্ত করা যায়। চাইনিজ মোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানি Vivo সর্বপ্রথম ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যুক্ত ফোন বের করে। এটি হচ্ছে Vivo X20 Plus UD. ২০১৮ সালে ভিভো এই ফোনটি বের করে। এটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার হিসেবে অপটিক্যাল স্ক্যানার ব্যবহার করে।

ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম নিয়ে জানতে দেখুন
অ্যাপল ফেইস আইডি

অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার আসলে একটি সাধারণ ক্যামেরা। অনেক ক্ষুদ্র একটা ক্যামেরা ডিসপ্লের নিচে বসিয়ে দেয়া হয়। এই ক্যামেরা দিয়ে আঙ্গুলের হাই রেজুলেশন ছবি তোলা হয়। যার থেকে পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ণয় করা হয়। ডিসপ্লের ভেতর নির্দিষ্ট স্থানে একটি ছিদ্র করা হয় ক্যামেরার ছবি তোলার জন্য, এর ভেতর থেকেই ক্যামেরা ডিসপ্লের উপরে রাখা আঙ্গুলের ছবি তুলে নেয়। ডিসপ্লের ক্যামেরা ছিদ্রর উপর আঙ্গুল রাখলে ক্যামেরাতে কোন আলো পড়বে না। আর আলো ছাড়া কোন সাধারণ ক্যামেরাই ছবি তুলতে পারে না। এজন্য ক্যামেরা ছিদ্রের উপর রাখা আঙ্গুলে ডিসপ্লের সাহায্যে আলো ফেলা হয়। সব ধরনের আলো আবার অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের জন্য উপযোগী না। OnePlus তাদের Oneplus 6T মোবাইলে অপটিক্যাল রিডার ব্যবহার করেছে এবং oneplus বলেছে তারা অনেক ধরনের আলো ব্যবহার করে দেখেছে, কোন আলো সব থেকে ভাল ছবি তুলতে সাহায্য করে। সবুজ রঙের আলো ছবির জন্য সব থেকে বেশি ভাল ডিটেইল দিতে সক্ষম তাই তারা সবুজ রঙের আলো ব্যবহার করেছে।

অপরদিকে আলট্রাসনিক স্ক্যানার স্মার্টফোন জগতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সব থেকে বেশি ভাল প্রযুক্তির এবং বেশি কার্যক্ষম হচ্ছে আলট্রাসনিক স্ক্যানার। Qualcomm সর্বপ্রথম মোবাইল ফোনের জন্য 3D আলট্রাসনিক স্ক্যানার বাজারে আনে। এই ধরনের স্ক্যানার হাই ফ্রিকোয়েন্সি শব্দের দ্বারা আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে থাকে। স্ক্যানারের ভেতর ট্র্যান্সমিটার এবং রিসিভার দুটি অংশ থাকে। ট্র্যান্সমিটার দ্বারা উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ট্র্যান্সমিট করা হয় যা আঙ্গুলের সাথে প্রতিধ্বনিত হয়ে স্ক্যানারের দিকে ফিরে আসে এবং স্ক্যানারের রিসিভার অংশ সেই প্রতিধ্বনিত শব্দ গ্রহণ করে। এই ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে। রিসিভার অংশটি কোন মাইক্রোফোন নয়। এটি একটি সেন্সর যা আঙ্গুলের ছাপের বিভিন্ন ভাঁজে বাঁধা পাওয়া শব্দ তরঙ্গের ফিরে আসার গতি এবং দূরত্ব হিসাব করে বের করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ দ্বারা আঙ্গুলের ভাঁজের 2D ছবি তৈরি করা হয়। যা থেকে আঙ্গুলের ছাপের সব পার্থক্য বের করা হয়। ট্র্যান্সমিটার থেকে রিসিভার শব্দের পাঠানো আর রিসিভ করার প্রক্রিয়াটি কয়েকবার করা হয়। যাতে করে নির্ভুল ভাবে আঙ্গুলের ছাপের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। এতে করে ক্যাপাসিটিভ স্ক্যানার থেকে আলট্রাসনিক স্ক্যানার অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুল হয়। এতে করে অবশ্য ফিঙ্গার স্ক্যানিং এর সময় অনেক বেশি লাগে। তাই আলট্রাসনিক স্ক্যানার ক্যাপাসিটিভ স্ক্যানার থেকে কম গতিশীল কিন্তু অপটিক্যাল স্ক্যানার থেকে দ্রুত কাজ করতে পারে। কিছুদিন আগে বের হওয়া স্যামসাং গ্যালাক্সি S10 পৃথিবীর প্রথম 3D আলট্রাসনিক স্ক্যানার ব্যবহৃত ফোন।

যদি অপটিক্যাল আর আলট্রাসনিকের মধ্যে পার্থক্য করা হয় তাহলে সব দিক থেকে আলট্রাসনিক স্ক্যানার ব্যবহারে উপযোগী বেশি। অপটিক্যাল থেকে আলট্রাসনিক অনেক বেশি গতিশীল ও নির্ভুল। ধুলো, ভেজা আঙ্গুল এবং স্ক্রিন প্রটেক্টরের উপর দিয়ে খুব সহজেই এটি অপটিক্যাল থেকে ভাল কাজ করে। এছাড়া আলট্রাসনিক স্ক্যানারের কাজ করার জন্য ডিসপ্লের উপর কোন আলো ব্যবহার করা প্রয়োজন হয় না।

আবার ফিরে আসা যাক স্ক্যানারে,

ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের নিয়ে আমার জেনেছি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট কত রকমের হয় সেটিও জেনেছি। এবার ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জেনে নেয়া যাক। ইন-ডিসপ্লে এবং আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এই শব্দগুলো আমরা এখন অনেক শুনি। বুঝতে অসুবিধা হয় বা বুঝতে পারলেও দুটি জিনিসই একই মনে করি। ইন-ডিসপ্লে এবং আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, এগুলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের কাজ করে এবং ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু এদের অবস্থান ডিসপ্লের মধ্যে ভিন্ন দুটি জায়গায় এবং এ দুটি কখনই এক জিনিস নয়।

ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার ডিসপ্লের ঠিক মাঝখানে বসানো থাকে। ডিসপ্লের উপরে একটি প্রোটেকশন গ্লাস লাগানো থাকে। যার উপরে আমরা আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে কাজ করি। এই গ্লাসের সাথে আরও কিছু জিনিস যুক্ত থাকে, যেমন Touch Digitizer. তার ঠিক নিচেই অবস্থান করে মূল ডিসপ্লে। যার দ্বারা আমরা সব কিছু দেখতে পাই। মূল ডিসপ্লের একদম নিচে থাকে Module Board. এটি ডিসপ্লের সব অংশকে এক সাথে ধরে রাখে। ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার Module Board এর ভেতর মূল ডিসপ্লের সাথে একত্রে সংযুক্ত থাকে। এভাবে স্ক্যানার ব্যবহার করার সুবিধা হচ্ছে স্ক্যানিং এর জন্য ডিসপ্লের যে কোন জায়গায় আঙ্গুল রাখা যাবে।

আর আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ডিসপ্লে Module Board এর ভিতর কিন্তু মূল ডিসপ্লের বাইরে অবস্থান করে। স্ক্যানারের কাজ করার জন্য ডিসপ্লের মধ্যে একটি ছোট ছিদ্র করা হয়। যার মধ্যে দিয়ে স্ক্যানার আঙ্গুলের ছবি তুলতে পারে। আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য মূল ডিসপ্লেতে কোন ছিদ্র করার প্রয়োজন হয় না। কারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মূল ডিসপ্লে প্যানেলের সাথে যুক্ত থাকে।

ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্টের সুবিধা

ট্র্যাডিশনাল ক্যাপাসিটিভ ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের তুলনায় ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার অনেক বেশি পাতলা হয়। যা স্মার্টফোনের থিকনেস কমাতে সাহায্য করে। এই ধরনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট শুধু মাত্র OLED (organic light emitting diode) প্যানেলে কাজ করায় ব্যবহারকারীরা অনেক হাই কোয়ালিটির ডিসপ্লে তাদের ফোনে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। ডিসপ্লের নিচে স্ক্যানার থাকাতে ফোনের লক খুলতে অনেক সুবিধা হয়। যেমন টেবিলের উপর থাকা অবস্থায় ফোন হাতে না নিয়েই লক খোলা যায়। আলট্রাসনিক স্ক্যানার দ্বারা ভেজা আঙ্গুল দিয়েও ফোনের লক খোলা যাবে। অন্য স্ক্যানার দিয়ে এটি করা সম্ভব নয়।

সাধারণত ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ফোনের নিচের দিকে থাকায় যেকোনো রকম অবস্থায় ফোনের লক খোলা যাবে। যেমন গাড়ি চালানোর সময় ড্যাশবোর্ডে ফোন থাকা অবস্থায় এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক। সিকিউরিটির দিক থেকেও এই ধরনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট অনেক বেশি উপযোগী। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে করে কোন রকম ভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নকল করা না যায় এবং নকল করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে এখন পর্যন্ত ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ফোনের লক খোলা যায়নি। তাই এটি আমাদের জন্য এখনো অনেকটাই নিরাপদ একটি সিস্টেম।

কিছু সমস্যা

নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর সাথে এর সমস্যাও অনেক সৃষ্টি হয়। ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আগে ব্যবহার করা সকল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার থেকে অনেক বেশি ধীর গতির। আঙ্গুলের ছাপ সনাক্ত করতে ক্যাপাসিটিভ স্ক্যানার থেকে অনেক বেশি সময় নেয়। মাঝে মাঝে আঙ্গুল স্ক্যানিং এর সময় স্ক্যানার রেজিস্টার করা ফিঙ্গার প্রিন্ট চিনতে পারে না বা ঠিক মতো কাজ করে না। যেকোনো রকমের স্ক্রিন প্রটেক্টর ডিসপ্লেতে লাগানো যাবে না। এতে করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করবে না। মোটা টেম্পার্ড গ্লাস স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করলে স্ক্যানার ফিঙ্গার প্রিন্ট চিনতে পারে না। এছাড়াও স্ক্রিনের উপর দাগ, ময়লা ও আঙ্গুল ভেজা থাকলে স্ক্যানার কাজ করে না। সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে সাধারণ কোন ডিসপ্লে প্যানেলের মধ্যে এই ধরনের স্ক্যানার কাজ করবে না। এজন্য OLED প্যানেল ডিসপ্লে হতে হবে। যা স্মার্টফোনের সব থেকে বেশি দামি ডিসপ্লে প্যানেল। তাই কমদামী স্মার্টফোনে এই মুহূর্তে ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আশা করা যাবে না।

ভবিষ্যৎ

স্মার্টফোন ডিজাইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন ডিজাইন সবাই পছন্দ করে। বড় ডিসপ্লে মোবাইল ফোনে আমাদের কাজ করার সুবিধার জন্য এখন সব মোবাইল ফোন বড় ডিসপ্লে করা হয়। এজন্য কিছু দিক থেকে স্মার্টফোন ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়। Edge-to-Edge ডিসপ্লে ফোনের আকৃতি ছোট রেখে ডিসপ্লে সাইজ বড় করা হয়। এজন্য ফোনের সামনে থাকা ফিঙ্গার প্রিন্ট ডিসপ্লের মধ্যে দেয়া হচ্ছে। এতে করে মোবাইল প্রস্তুত করার খরচ কমে যাবে আর মোবাইল ফোন অনেক পাতলা করা সম্ভব হবে।

ফিঙ্গার প্রিন্ট সিস্টেমের জন্য ডিসপ্লে ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং ক্যাপাসিটিভ ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্টও এক সময় সব স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হবে। সব মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখন ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে কাজ করছে। কিভাবে একে আরও কম মূল্যে স্মার্ট ফোনে ব্যবহার করা যায় এবং আরও বেশি নিরাপদ করা যায়। পরবর্তীতে আমরা স্মার্টফোনে অনেক উচ্চ গতির স্ক্যানার ব্যবহার দেখবো। পুরো ডিসপ্লেতে অনেক গুলো স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে যাতে করে ডিসপ্লের যে কোন স্থানে আঙ্গুল রাখলে স্ক্যানিং করা যায়। একটি মাত্র স্ক্যানার দিয়েও সম্পূর্ণ ডিসপ্লেতে স্ক্যানিং যাতে সম্ভব হয় সেটি নিয়েও কাজ চলছে, এর সাথে ফিঙ্গার স্ক্যানিং সময়ও আরও কমিয়ে স্ক্যানিং অনেক গতিশীল করা হবে।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

Credit:

Cover Image: Internet


Reference

Fingerprint sensing display whats-difference

In-Screen Fingerprint Reader

Electronic fingerprint recognition

Fingerprint, Touch ID, Fingerprint scanner

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *