স্মার্টফোন

হুওয়ায়ে এর নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন পরিকল্পনা

May 20, 2019

হুওয়ায়ে এর নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন পরিকল্পনা

হুওয়ায়ে নামক চাইনিজ কোম্পানিটির নাম শোনেনি এমন লোক হয়তবা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। খুব কম সময়ে সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ব্র্যান্ডটি। ১৯৮৭ সালে রেন ঝেংফেই এর হাত ধরে শূন্য থেকে পথ চলা শুরু করে এই কোম্পানিটি। মাত্র ৫৬০০ ডলার পকেটে নিয়ে সেনজেন নামের একটি জেলেদের শহরে রেন ঝেংফেই প্রায় ত্রিশ বছর আগে কোম্পানিটির সূচনা করেন। কে জানতো যে ৩০ বছর পর এই ছোটখাটো কোম্পানিটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল কোম্পানিগুলোর একটি?

হুওয়ায়ে শব্দটির অর্থ হলো চমকপ্রদ অর্জন। গত ৩০ বছরে হুওয়ায়ের অর্জনের থলি সত্যিই চমকপ্রদ। ব্যবসায় পদচারনার প্রথমের দিকে হুওয়ায়ের টেলিকমিউনিকেশন অপারেটর হিসেবে একটি লাইসেন্স ছিল। বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি হিসেবে। এর স্থান মোবাইল ডিভাইসের মার্কেটে স্যামসাংয়ের ঠিক পরে এবং অ্যাপলের ঠিক আগে। এবং এই অর্জনটি বিস্ময়কর ভাবে খুবই দ্রুত গতিতে অর্জিত হয়েছে। মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি গুলোর মধ্যে হুওয়ায়ের উত্থান সবচেয়ে দ্রুত গতিতে হয়েছে।

তবে যার উত্থান যত দ্রুত হয়, তার পতনও ততই দ্রুত হয়। হুওয়ায়ের ক্ষেত্রেও একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়ে ওঠা এই কোম্পানিটির পতনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে রাতারাতি। আমেরিকা এবং চায়নার বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য বলির শিকার হতে হয়েছে এই কোম্পানিটিকে। হুওয়ায়ের সাথে আমেরিকার সকল ফার্মের বাণিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে গুগল, কোয়ালকম, ARM, কর্নিং এর মত বড় বড় আমেরিকান ফার্ম গুলোর সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে হুওয়ায়ে এর। তার মাঝে লক্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে গুগলের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড এবং ARM প্রসেসর গুলোর আর হুওয়ায়ে ব্যবহার করতে পারবে না। এই নিয়ে পুরো প্রযুক্তি জগতে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার। টেকনোলজি জগতে হুওয়ায়ের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের কারণে নড়ে চড়ে উঠতে বাধ্য হয়েছে পুরো টেকনোলজি জগত। হুওয়ায়ের সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রভাব শুধুমাত্র এই কোম্পানিটি কিংবা চায়না এবং আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব রয়েছে আপনার এবং আমার মত সাধারণ মানুষের উপরও। তাই এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান রাখা আমাদের জন্য খুবই জরুরী। আর এই সম্পর্কে সকল তথ্যাদি সম্পর্কে আপনাদের অবগত করে প্রযুক্তি সচেতন করে গড়ে তোলাই আজকের এই ব্লগটির উদ্দেশ্য। চলুন এক নজরে দেখে নেই হুওয়ায়ের উপর আমেরিকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত জানা-অজানা নানা তথ্য এবং এর প্রভাব সম্পর্কে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

এক বছরের বেশি সময় ধরেই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা হুওয়ায়ের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে এটি বিরূপ আকার ধারণ করে। এই সর্তকতা হঠাৎ করে রূপ নেয় কঠিন সিদ্ধান্তে। আমেরিকা হঠাৎ করেই হুওয়ায়ের সাথে সকল ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যদিও আমেরিকার প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ সকলের কাছে প্রকাশ করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে সকল প্রমাণও রাখা হয়েছে গোপন। তারপরও বিভিন্ন তথ্য সূত্র থেকে যেসব তথ্য জানা গিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্যেই এই লেখা।

হুওয়ায়েকে নিয়ে আমেরিকার এত চিন্তার মূলে কিন্তু সেলফোন গুলো নেই। এই চিন্তার শুরু হয়েছিল হুওয়ায়ের সেল টাওয়ার গুলোকে নিয়ে। নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অর্থাৎ যে হার্ডওয়ার গুলোতে আমাদের ফোন গুলো সংযোগ স্থাপন করে সেগুলোর মূল সরবরাহকারী গুলোর একটি হচ্ছে হুওয়ায়ে । এই মার্কেটে হুওয়ায়ের প্রধান প্রতিযোগী গুলো হচ্ছে এরিকসন এবং কোয়ালকম। যখন ক্যারিয়ার গুলো ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতিতে একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে, তখনই আইন প্রণেতারা হুওয়ায়েকে এই প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হুওয়ায়ের সেল টাওয়ার গুলোতে নিরাপত্তা ছিদ্র থাকার কোন শক্তিশালী প্রমাণ এখন পর্যন্ত মিলেনি। তবে আমেরিকার সরকারি আমলাদের কাছে শক্তিশালী প্রমাণের কোন প্রয়োজন ছিলনা। হার্ডওয়ার সরবরাহকারী হিসেবে হুওয়ায়ের অ্যাপলের আইওএস আপডেটের মত সফটওয়্যার আপডেট দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত হুওয়ায়ের চিনা হেডকোয়ার্টার থেকে সেল টাওয়ার গুলোতে একটি পাইপ লাইন থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত চাইনিজ সার্ভিলেন্স এজেন্সি গুলো দ্বারা নেটওয়ার্কগুলোতে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানোর একটি সম্ভাবনা থেকে যায়। এটি হতে পারে হুওয়ায়ের সাহায্য তারা কিংবা তাদের সিস্টেমকে হ্যাক করে নিজেদের মতো ব্যবহার করার মাধ্যমে। আমেরিকার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি গুলোর নজরে এই ঝুঁকিটি অনেক বেশি বড় বলে মনে হয়েছে। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তটি সঠিক মনে না হলেও ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ সেল নেটওয়ার্কে ধরনের টার্গেটের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এবং চায়নার এই ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি করার ইতিহাস হয়েছে।

তবে অ্যান্ড্রয়েড এবং অন্যান্য কম্পোনেন্টের লাইসেন্সিং এ হুওয়ায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা যতটা না নিরাপত্তার কারণে আরোপ করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি করা হয়েছে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে। এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার খুবই আজব একটি ব্যাপার চোখে পড়ার মতো। নিষেধাজ্ঞাটি করা হয়েছে চাইনিজ কোম্পানিটিতে আমেরিকার কোম্পানিগুলোর বিক্রির উপর। আমেরিকাতে চাইনিজ কোম্পানি থেকে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস ক্রয়ের উপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি হুওয়ায়ের প্রোডাক্ট আমেরিকার জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে থাকে, তবে হুওয়ায়ে থেকে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস ক্রয় করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় না? আমেরিকার প্রশাসন এটি না করে আমেরিকার ফার্ম গুলোকে হুওয়ায়ের কাছে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস বিক্রয় করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার কারণটি খুব বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে না। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে হুওয়ায়ের অ্যান্ড্রয়েড লাইসেন্স কিংবা ARM চিপ ডিজাইন আমেরিকার নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্টের উপর কোন ধরনের প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ সেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির যে সন্দেহে হুওয়ায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার সাথে এই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টির তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এটি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে হুওয়ায়ের কাছে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে বাণিজ্য যুদ্ধ বেশি বড় একটি কারণ।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

হুওয়ায়ের কাছে কম্পোনেন্ট বিক্রয়ে আমেরিকার ফার্মগুলোর উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফার্ম হচ্ছে গুগল এবং ARM। এর কারণ হলো হুওয়ায়ের ফোন গুলো যে অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হয় সেটি হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। এবং এই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি গুগলের। হুওয়ায়ে ARM হতে চিপসেট গুলো ক্রয় করত। এই চিপসেট গুলোকে ব্যবহার করেই তারা তাদের কিরিন সিরিজের প্রসেসরগুলো বানাতো। আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বড় দুটি ফার্মের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হচ্ছে হুওয়ায়ে এর। কর্নিং এর মত আরো কিছু ফার্মের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলেও সেগুলো উল্লেখিত দুটো ফার্মের মত খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এদের প্রতিস্থাপন হিসেবে আমেরিকার বাইরের অন্যান্য ফার্মেন্ট কম্পোনেন্ট কিছু মোবাইল কোম্পানি ইতোমধ্যে ব্যবহার করেছে। তাই তাদের প্রভাব অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। চলুন জেনে নেই এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় ফার্ম গুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াতে কী প্রভাব পড়তে পারে।

গুগলের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

হুওয়ায়ের ফোন গুলো গুগলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেসের উপর হুওয়ায়ে তাদের নিজস্ব স্কিন যুক্ত করে। অর্থাৎ গতানুগতিক অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম কি তারা নিজেদের মতো করে সাজিয়ে কাস্টমারকে সার্ভিস প্রদান করে থাকে। নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কেটে উন্মোচিত হুওয়ায়ে ফোন গুলোর উপর তেমন কোন প্রভাব পড়বেনা। এক্সিস্টিং ডিভাইস গুলোতে সিকিউরিটি ফিচার এবং গুগল প্লে স্টোর ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যে ফোনগুলো ভবিষ্যতে উন্মোচনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো গুগল প্লে, গুগল ম্যাপ এবং জিমেইল অ্যাপের মত অ্যান্ড্রয়েড সার্ভিসগুলো পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যেহেতু অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম একটি ওপেনসোর্স প্রজেক্ট, সেহেতু যে কোন কোম্পানি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নিজেদের ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারবে। ফলে হুওয়ায়ের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারে কোন বাধা নেই। তবে নিষেধাজ্ঞার ফলে গুগল হুওয়ায়েকে কোন ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে পারবে না কিংবা অ্যান্ড্রয়েড এবং গুগল সার্ভিসের জন্য হুওয়ায়ের সাথে কোন ধরনের কলাবরেশনে যেতে পারবে না। অ্যান্ড্রয়েডের ওপেনসোর্স ভার্সনে লাইসেন্স করা ভার্সন থেকে অ্যান্ড্রয়েড আপডেট অনেক দেরিতে আসে। ফলে গুগল থেকে সিকিউরিটি আপডেট পাওয়ার ক্ষেত্রে হুওয়ায়ে থাকবে অনেক পিছিয়ে। কোন নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনে নিরাপত্তা জনিত কোন সমস্যা যদি ধরা পড়ে, তাহলে গুগল সাধারণত খুব দ্রুত সিকিউরিটি আপডেট প্রেরণ করে থাকে। এতে করে ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়ে যায়। হুওয়ায়ে যেহেতু অ্যান্ড্রয়েডের সিকিউরিটি আপডেট গুলো দ্রুত পাবে না, তাই নিরাপত্তা জনিত সমস্যা গুলোর সমাধান এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। যদিও হুওয়ায়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে মার্কেটে এক্সিস্টিং হুওয়ায়ে এবং অনার স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট গুলোর জন্য সিকিউরিটি আপডেট এবং বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা হবে। এই ধরনের সমস্যা আগে থেকে আঁচ করতে পেরে হুওয়ায়ে তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমের ওপর অনেক আগে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

ARM এর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

গুগলের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় হুওয়ায়ের যতটা না ক্ষতি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে ARM এর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায়। এআরএম হচ্ছে ইউনাইটেড কিংডমের সেমিকন্ডাক্টর লাইসেন্স বিক্রেতা এবং এর মালিক হচ্ছে একটি জাপানিজ ফান্ড। তারা নিজেরা চিপ ম্যানুফ্যাকচার না করলেও তারা তাদের চিপের ডিজাইন সবচেয়ে বড় ম্যানুফ্যাকচারার গুলোর কাছে বিক্রয় করে থাকে। ARM তাদের কর্মকর্তাদের কাছে হুওয়ায়ের সাথে সকল ধরনের কন্ট্রাক্ট, সাপোর্ট এংগেজমেন্ট কিংবা পেন্ডিং এঙ্গেজমেন্ট শেষ করার জন্য একটি মেমো পাঠিয়েছে। মূল কারণ হচ্ছে ARM এর চিপ ডিজাইনের জন্য যে টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় সেগুলো আমেরিকা হতে উদ্ভূত। তবে ARM আশা করে আমেরিকার প্রশ্নের সাথে তাদের চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার একটি সমাধান হবে। হাই সিলিকন, হুওয়ায়ের প্রসেসর সিরিজের নাম। হাই সিলিকনের সাথে ARM এর ব্যবসায়িক সম্পর্ক অনেক দিনের পুরনো এবং হাই সিলিকন তাদের সবচেয়ে বড় পার্টনার গুলোর একটি। যদি এই সমস্যার একটি সমাধান না হয় তাহলে হুওয়ায়েকে বেশ বড় ধরনের একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। কারণ হুওয়ায়ে তাদের হাই সিলিকনের কিরিন সিরিজের চিপসেট গুলোর ডিজাইন ARM থেকেই ক্রয় করে থাকে।

হুওয়ায়ের উত্তর

হুওয়ায়ের উপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিউত্তরে তারা পরিচয় দিয়েছে দূরদর্শিতার। হুওয়ায়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই প্রথমত আমেরিকার ফার্মগুলোকে এত দিনের সফল ব্যবসায়িক সম্পর্কের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের আরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আমেরিকার প্রশাসনের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এর সাথে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে হুওয়ায়ের চিপসেট তৈরির জন্য আমেরিকান ফার্মগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনেক। তবে তিনি মনে করেন যে আমেরিকার প্রশাসন হুওয়ায়ের যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করছে। তিনি বলেছেন এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা হুওয়ায়ের ফাইভ জি রোল আউটে কোন বাধা প্রদান করবে না। আগামী দুই থেকে তিন বছরেও হুওয়ায়ের উন্নত টেকনোলজি ধারে কাছে অন্য কেউ আসতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন। বিভিন্ন তথ্য সূত্র থেকে জানা গিয়েছে হুওয়ায়ে এই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত মোকাবেলার প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই নেয়া শুরু করে দিয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে ফেলেছে বলে জানা যায়। চলুন দেখে আসি সে সম্পর্কে পাওয়া তথ্যগুলো।

হুওয়ায়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম

২০১২ সালের দিকে জানা যায় হুওয়ায়ে তাদের নতুন একটি অপারেটিং সিস্টেম ডেভলপমেন্টের কাজ শুরু করেছে। অনেক আগে থেকেই তারা আঁচ করতে পেরেছিল যে এরকম একটি বাধার সম্মুখীন তারা যেকোনো সময় হতে পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় অপারেটিং সিস্টেমটির নাম হতে পারে হংমেং অপারেটিং সিস্টেম। লিক হয়ে যাওয়া কিছু তথ্য থেকে জানা যায় এই অপারেটিং সিস্টেমে অ্যান্ড্রয়েডর অ্যাপ্লিকেশন গুলো রান করা যাবে। তবে ডেভলপারদের অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে রিকম্পাইল করতে হবে। হুওয়ায়ের কনজিউমার বিজনেস চিফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার দাবি করেন যে নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম টিতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন গুলো ৬০ ভাগ দ্রুততর গতিতে কাজ করবে। অ্যান্ড্রয়েডের মত এই অপারেটিং সিস্টেমটি ও মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট ,টেলিভিশন, গাড়ি এবং স্মার্ট ওয়ারেবল ডিভাইসে কাজ করবে। ধারণা করা হয় এই অক্টোবরে হুওয়ায়ের মেইট ২০ ডিভাইসটি এই অপারেটিং সিস্টেমটি সাথেই উন্মুক্ত করা হবে। আবার ২০২০ সালের উন্মোচনের কথাও শোনা গিয়েছে।

নতুন অ্যাপ স্টোর

গুগলের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার ফলে গুগলের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের প্লে-স্টোরের অ্যাক্সেস হুওয়ায়ের নতুন ফোন গুলো পাবে না। হুওয়ায়ে অ্যান্ড্রয়েডের প্লে স্টোরের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে বিভিন্ন অ্যাপ স্টোরের সাথে চুক্তি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পর্তুগাল হতে উদ্ভূত এপটয়েড নামক অ্যাপ স্টোরের সাথে হুওয়ায়ের চুক্তির গুঞ্জন শোনা যায়। এই অ্যাপ স্টোরটিতে ইতিমধ্যে ৯০০ হাজারেরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন এরও বেশি।

নতুন চিপসেট

ARM হুওয়ায়ের কাছে তাদের চিপসেটের ডিজাইন বিক্রয় বন্ধ করার ঘোষণা দেয়ার ফলে হাই সিলিকনের চিপসেট গুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু তাইওয়ান ভিত্তিক চিপসেট মেনুফেকচারিং কোম্পানিটি এম এস সি আমেরিকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হুওয়ায়ের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে ARM এর থেকে পূর্বে কিনে নেওয়া ডিজাইন গুলো ব্যবহার করে TSMC এর সাহায্যে চিপসেট তৈরি করা হুওয়ায়ের পক্ষে এখনো সম্ভব। ফলে নতুন চিপসেট তৈরিতে হুওয়ায়ের তেমন বড় কোনো বাধা নেই।

হুওয়ায়ের মত এত বড় একটি কোম্পানিকে একটি মাত্র বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাতারাতি ধ্বংস করে দেয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। হুওয়ায়ে এত কম সময়ে এতোটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তাদের নিত্য নতুন ইনোভেশনের জন্য। এবার কি তারা পারবে তাদের ইনোভেশনের জোরে এই বাণিজ্য যুদ্ধে জয়ী হতে? এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে তথ্যপ্রযুক্তি উন্মাদরা তাদের পরাজিত হতে দেখতে চায় না। প্রযুক্তির জগত মাতিয়ে বেড়ানো এমন ইনোভেটিভ কোম্পানিগুলোর এমন শেষ পরিণতি কেউ আশা করে না। আমরাও আশা করি সকল সমস্যার সমাধান হয়ে দিন শেষে প্রযুক্তির জয় যেন হয়।

Image Credit: AFP

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *