মহাকাশ ও বিজ্ঞান

গ্রিনল্যান্ড বরফ শূন্য হবে আগামী এক হাজার বছরে মধ্যে

June 27, 2019

গ্রিনল্যান্ড বরফ শূন্য হবে আগামী এক হাজার বছরে মধ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা একটি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছেন যেখানে গ্রিনল্যান্ড পুরোপুরি বরফ শূন্য হবে যদি বর্তমান বরফ হ্রাসের হার চলমান থাকে। ৩০০০ সালের মধ্যে এটি হবে সম্পূর্ণ সবুজ সাথে থাকবে শিলাময় উপত্যকা। গ্রিনল্যান্ডের বরুফে পর্বত সম্পূর্ণ হাওয়া হয়ে যাবে। এই শতাব্দীর শেষেই উত্তর গোলার্ধের ৮% পানির বরুফে অবস্থার একটি বড় অংশ নিয়ে থাকা এই দ্বীপটি তার ৪.৫% বরফ হারাবে এবং সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা ৩৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে।

এবং যদি এই গলন চলমান থাকে ও সেই সাথে আমাদের ফসিল জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যায় তাহলে আরও এক হাজার বছরের মধ্যে পুরো দ্বীপটিই সাগরে তলিয়ে যাবে। গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা আরও ৭ মিটার বৃদ্ধি পাবে। ফলে মায়ামি, লস এঞ্জেলস, কোপেনহেগেন, সাংহাই এবং নিউ অরলিয়েন্স-এর মত শহর গুলো পানিতে তলিয়ে যাবে।

আলাস্কার ইউনিভার্সিটি অফ ফেয়ারব্যাঙ্কস-এর জিওফিজিকাল ইন্সটিটিউটের এন্দি এসচুয়ানদেন বলেন,

“ভবিষ্যতে কেমন হবে আজকের গ্রিনল্যান্ড – আপাতত হাজার বছরের মধ্যে কেমন হবে তা নির্ভর করছে আমাদের উপর।”

তিনি ও যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক হতে তার সহকর্মীরা দ্য জার্নাল সায়েন্স এডভান্সে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন এই মর্মে যে তারা একটি নতুন রাডার ডাটা পেয়েছেন যেখানে বরফের পুরুত্ব এবং মহীসোপানের নিচে বরফের পুরো ভরের একটি সম্পূর্ণ হিসাব সম্বলিত ছবি দিয়েছে। তারা তখন জরুরি জলবায়ু বিষয়ে জাতীয় এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া উপর ভিত্তি করে ৩টি সম্ভাব্য জলবায়ু ফলাফলের কথা বলেছেন – যেভাবে গলন বাড়ছে সে অনুযায়ী গ্লেসিয়ারও গলছে, গ্রীষ্ম ও শীতেও বরফ গলছে এবং মহাসাগরের উষ্ণতা বাড়ছে। ৫০০টি কম্পিউটার সিম্যুলেশন রান করিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যতের একটি ছবি পাওয়া গেছে। গবেষকরা বছরের পর বছর বলে যাচ্ছেন গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলনের হার বেড়েছে। বরফের যে আস্তর রয়েছে সেখান থেকে বরফ হারিয়ে যাচ্ছে; কিছু জায়গায় এই হার এত বেশি যে মহীসোপান দেখা যাচ্ছে – বরফের ভরের ভারে সেটি উপরে উঠে আসছে।

গ্রীষ্মের আইসবার্গ-এ রূপান্তরিত হতে সাগরের দিকে বরফ বয়ে নিয়ে যাওয়া বৃহৎ বরুফে নদীগুলো আগের চেয়ে অনেক দ্রুত বরফ সাগরে নিচ্ছে। ২০১৪ সালের হিসাব ও বর্তমানের হিসাব খতিয়ে দেখা গেছে গতি চারগুণ বেড়েছে; দিনে ৫০ মিটার করে সেগুলো সাগরের দিকে এগুচ্ছে। পোলার রিজিয়নে যেকোনো গবেষণা করা সত্যই কঠিন, শেষ সিদ্ধান্তে আসা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বেশিরভাগ গবেষণা গ্রীষ্মকালেই সীমাবদ্ধ এবং সেগুলো শীতে করা অসম্ভব বলতে গেলে। আবহাওয়া ও মহাসাগরের অবস্থার কারণে বরফ হ্রাসের হার আরও বেড়েছে।

গ্রিনহাউজ গ্যাসের বৃদ্ধি

কিন্তু ফেয়ারব্যাঙ্কসের গবেষণার সাথে অন্যান্য গবেষণার কিছু বিষয়ে ফারাক পাওয়া গেছে। একই কম্পিউটার সিম্যুলেশন বলেছে যে যা ঘটে চলেছে সেগুলো আসলে ঘটছে বিশ্বের ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনে। আর এর কারণ হল আমরা ফসিল জ্বালানি ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছি যার ফলে গ্রিনহাউজ গ্যাসগুলো আমাদের বায়ুমন্ডলে বেড়ে গিয়েছে। যদি কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কমানো যায়, বিজ্ঞানীরা বলেছেন তাহলে দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে বাধ্য। প্রকৃতপক্ষে, গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি এই শতাব্দীর শেষেই এর এক চতুর্থাংশ বরফের আবরণ হারিয়ে ফেলবে। সাথে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে ১.৮৮ মিটার।

আরেকটি কম আশাব্যঞ্জক অনুমান বলছে গ্রিনল্যান্ড এর ৫৭% বরফ হারাবে এবং সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে ৪.১৭ মিটার। সবচেয়ে শোচনীয় পরিস্থিতি হবে এই বরফ হ্রাসের সম্ভাবনা ৭২% হলে তখন মহাসমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে ৭.২৮ মিটার; যেটা গ্রিনল্যান্ডের আজকের সমস্ত বরফের ভরের সমান।

গবেষকরা বলেন,

“গ্রিনহাউজ গ্যাসের ক্রমাগত নিঃসরণের ফলে আমরা অনুমান করছি যে আজকের গ্রিনল্যান্ড এই সহস্রাব্দির শেষেই বরফ শূন্য হয়ে যাবে।”

রেফারেন্স: ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড

ইমেইজ সোর্স: ক্লাইমেট নিউজ নেটওয়ার্ক

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *