প্রযুক্তির খবর

অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার স্মৃতি ধ্বংস করবে বলছে নতুন গবেষণা

June 10, 2019

অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার স্মৃতি ধ্বংস করবে বলছে নতুন গবেষণা

আমাদের অনেকেরই মা-বাবা বলেন সারাদিন ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে নাকি ব্রেইন কাজ করবে না। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে আমাদের মা-বাবার এই অনুমান কিছুটা হলেও সত্য। আমরা যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করি তাদের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার তাই না? গবেষণাটি বলছে অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার আমাদের ব্রেইনের ক্রিয়াকৌশল পরিবর্তন করে দিতে পারে।

মার্কিন, অস্ট্রেলিয়ান ও ইউরোপিয়ান গবেষকরা এই নতুন গবেষণাটি চালিয়েছেন এবং বের করেছেন যারা অনেক সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা মেমরি টাস্কে স্বাভাবিকের চেয়ে খারাপ করেন আর সহজেই দিকভ্রান্ত হয়ে যান। এই প্রজন্ম যেটা কিনা ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে বড় হচ্ছে তাদের এভাবেই ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে, ভাবা যায়? অকল্পনীয় ব্যাপার আমাদের কারো কারো কাছে। কিন্তু দেখা যাবে গবেষকদের মেমরি টাস্কগুলো যখন সময়মত সমাধান করতে পারবেন না তখন ঠিকই উপলব্ধি হবে এই বুঝি বড্ড দেরি হয়ে গেল।

অত্যধিক ইন্টারনেট ব্যবহার স্মৃতিভ্রমের কারণ

বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি করতে গিয়ে ১০০০ জন অংশগ্রহনকারীর উপরে মেমরি ও কগনিটিভ টেস্ট চালিয়েছেন সেই সাথে তাদের ব্রেইন স্ক্যানও করা হয়েছে। গবেষণাটি সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড সাইকায়াট্রি-তে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রজেক্টের নেতা হলেন ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী জোসেফ ফারথ। সম্প্রতি এক প্রেস রিলিজে তিনি ইন্টারনেট ডিজাইন কিভাবে আমাদের মানুষের ব্রেইনের কর্মক্ষমতা ও কাঠামো পরিবর্তন করছে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন।

ফারথ বলেন,
প্রতিদিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমরা শত শত মেসেজ ও নোটিফিকেশন চেক করি। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে একবার প্রবেশ করলে খবরের চাপে আমরা কোথায় যেন হারিয়ে যাই। এটা আমাদের যেকোনো কিছুর প্রতি মনোযোগের ব্যাপারে ক্ষতিকর। পরবর্তীতে আমরা যেকোনো ব্যাপারে মনোযোগ দিতে গেলেই দিকভ্রান্ত হয়ে যাই সহজেই।

ফারথ আরও ব্যাখ্যা করেন এই বলে যে, আজকাল আমাদের হাতের কাছেই সব ইনফরমেশন। আমরা যা চাই তাই পাই। আগে যখন ইন্টারনেট ছিল না মানুষ গবেষণার জন্য লাইব্রেরিতে যেত; অনেক বই পড়ত। ব্রেইনকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ধারণা দিত। গুগল সার্চ ইঞ্জিন আর উইকিপিডিয়ার এই যুগে গবেষণা অনেক সহজই হয়ে গেছে সেই হিসেবে। মানুষকে এখন কিছুই মনে রাখা লাগে না। ইন্টারনেটেই সব আছে যখন মনে রেখেই বা কি হবে!

আমাদের ব্রেইন যেভাবে ইনফরমেশন স্টোর করে ইন্টারনেটের উপর নির্ভর হয়ে পড়ার কারণে ব্রেইনের কর্মক্ষমতা আর কাঠামোতেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যা কিনা আমাদের মানুষের সামগ্রিক বিহেভিরিয়াল প্যাটার্ন-এও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বলা যায়, দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারের দরুন আমরা অচিরেই এগুচ্ছি গোল্ডফিশ মেমরির দিকে।

রেফারেন্স:
১) ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি নিউজরুম
২) ওয়ার্ল্ড সাইকায়াট্রি

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *