ইন্টারনেট

IoT বা ইন্টারনেট অফ থিংস

February 24, 2019

IoT বা ইন্টারনেট অফ থিংস

IoT অথবা Internet of Things অনেকবার শব্দটি শুনেছি অথচ অনেকেই আমরা ব্যাপারটি নিয়ে জানি না। আজকে আমি আপনাদেরকে বলবো এই ইন্টারনেট অফ থিংস আসলে কি। কিভাবে আমরা এগুলি ব্যবহার করি, আর কেনই বা ব্যবহার করি।

আচ্ছা তাহলে IoT কি

ইন্টারনেটের সাথে সরাসরি ভাবে সংযুক্ত সকল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসকে IoT বা IoT ডিভাইস বলা হয়। তার মানে আপনি যে কোন একটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসকে নিয়ে সেটিকে যদি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে দিন তাহলে সেটিই IoT ডিভাইস হয়ে যাবে।

আপনি এই লেখাটি এখন হয়তো একটি স্মার্ট ফোন অথবা কোন কম্পিউটারের সামনে বসে পড়ছেন। আপনার মোবাইল ফোনটি এবং কম্পিউটার এই দুটিই IoT ডিভাইস। আপনার হাতে একটি স্মার্টওয়াচ আছে, সেটিতে ফেইসবুক থেকে নোটিফিকেশন আসলে দেখাবে আবার কোন ইমেইল আসলে সেটিও দেখাবে। তাহলে আপনার হাতের এই স্মার্টওয়াচটি একটি IoT ডিভাইস।

আপনার অফিসে এবং বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। আপনি কোন কারণে দেশের বাইরে গেলেন। এখন আপনি চাচ্ছেন বিদেশে বসে আপনার বাসা এবং অফিসের সবকিছু সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে দেশের বাহিরে বসে দেখবেন তাহলে আপনি যেটা করবেন আপনার বাসা এবং অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরাকে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করবেন। তখন আপনার বাড়ির এবং অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা সিস্টেমটি একটি IoT সিস্টেমে পরিণত হবে। তাহলে আমরা সহজেই বুঝে গেলাম IoT কি। খুব সহজে আমরা কিভাবে এর ব্যবহার করি এবং এগুলো দিয়ে কিভাবে উপকৃত হতে পারি।

সারা পৃথিবীতে এরকম বিলিয়ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস আছে যা সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। IoT ডিভাইস যে কোনো রকমের ইন্টারনেট সংযোগের সাথে সংযুক্ত হতে পারে হোক সেটা তারযুক্ত অথবা তারবিহীন। IoT ডিভাইসগুলো যে কোনো রকমের আকৃতির হতে পারে। কোন কোন ডিভাইসকে বিশেষ কোন ছোটখাটো কাজের জন্য তৈরি করা হয়। নির্দিষ্ট ঐ কাজগুলোকে করার জন্য ডিভাইস গুলোর সাথে সংযুক্ত সেন্সর ব্যবহার করে ডিভাইসের ভিতরের পূর্বে নির্ধারণ করে রাখা প্রোগ্রাম অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করতে থাকে অথবা ডিভাইসটি ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ অথবা তথ্য আদান প্রদান করতে থাকে।

আমরা অনেকেই স্মার্ট হোম সিকিউরিটি সিস্টেমের কথা শুনেছি। এখানে আসলে কিভাবে সিকিউরিটি সিস্টেমটা কাজ করে সেটাও আমরা জানি। যদি অপরিচিত কেউ আপনার বাসার ভেতরে ঢুকতে চায় তাহলে আপনার কাছে থাকা মোবাইল ফোনে কোন মেসেজ অথবা কল চলে আসবে। আপনাকে জানাবে যে আপনার বাসায় কেউ দরজা ভেঙে অথবা অন্য কোনো ভাবে ঢুকতে চাইছে। তখন আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পুরো স্মার্ট হোম সিকিউরিটি সিস্টেমটাই একটি ইন্টারনেট নির্ভর ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের দ্বারা নিয়ন্ত্রন সম্ভব হচ্ছে। তাহলে এই স্মার্ট হোম সিকিউরিটি সিস্টেমটি একটি IoT ডিভাইস। এখনকার দিনে অনেক গাড়ির ভিতর অনেক রকমের সেন্সর লাগানো থাকে। জিপিএস সিস্টেম লাগানো থাকে যার দ্বারা আমরা ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে অপরিচিত স্থানে সহজেই যেতে পারি। গাড়ির ভেতরের এই আধুনিক ব্যবস্থা একটি IoT সিস্টেম।

IoT ডিভাইসের ধরন

আইওটি ডিভাইস গুলো বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন কিছু আইওটি ডিভাইস শুধু তথ্য সংগ্রহ করে। কিছু ডিভাইস সংগৃহীত তথ্যকে অন্যত্র পাঠায় আবার কিছু ডিভাইস তথ্যকে নিয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে। তত্ত্ব অনুযায়ী IoT ডিভাইসের কোন প্রকার ভেদ নেই কিন্তু কাজ করার ধরন অনুযায়ী ডিভাইস গুলো আলাদা রকমের হয়। ছোট বড় হয় অথবা পরিবহন করার মত হয়। কিন্তু সকল ডিভাইসের কাজই হলো তথ্য সংগ্রহ করা এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে ক্লাউড স্টোরেজে তথ্যকে সংরক্ষণ করা। প্রয়োজন অনুসারে ক্লাউড স্টোরেজ থেকে তথ্যকে নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা।

IoT কেন দরকার

২০২০ সালের ভিতরে পৃথিবীতে মোট IoT ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ বিলিয়নে। আর এই ২৬ বিলিয়ন ডিভাইসের ব্যবসায়িক মূল্য বেড়ে দাঁড়াবে ১৯ ট্রিলিয়নে ডলারে। যা একটি অনেক বড় সংখ্যা। তাই প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য এটি অনেক বড় একটি লাভজনক খাত। আর এই বড় সংখ্যার স্মার্ট IoT ডিভাইসের মধ্যে সব থেকে বেশি ব্যবহার বাড়বে হাতে ব্যবহার যোগ্য এবং স্মার্ট হোম সিকিউরিটি সিস্টেমের। কিন্তু আমাদের মত সাধারন ব্যবহারকারীদের এগুলো কেন দরকার বা এর থেকে আমরা কিভাবে উপকৃত হতে পারি? এর সাথে আমাদের জীবন কিভাবে জড়িত সেটি বোঝার জন্য আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি অথবা আপনার ডেস্কের উপরে থাকা কম্পিউটারের দিকে লক্ষ্য করুন। এগুলো সবই IoT ডিভাইস।

দিন দিন স্মার্টফোনের ব্যবহার মারাত্মক ভাবে বাড়ছে আর স্মার্টফোনের সাথে ব্যবহারযোগ্য অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহারও বেড়ে চলেছে। প্রতিনিয়তই নতুন ভিন্ন রকমের স্মার্ট ডিভাইস বাজারে আসছে। আমরা সেগুলো ব্যবহার করছি কিছু শখ করে অথবা কিছু আমাদের প্রয়োজনে। এখন আপনি বুঝতে শুরু করেছেন কিভাবে আমরা IoT বা স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে অথবা নিরাপত্তার জন্যে বাড়িয়ে দিচ্ছি।

স্মার্ট ডিভাইস গুলো আমাদের চারপাশে রয়েছে। হার্টবিট নির্ণয় নির্ণয়কারী স্মার্ট ওয়াচকে ধরা যাক, এটি আমরা ব্যবহার করি আমাদের হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে দেখার জন্য।আবার নিরাপত্তার জন্য ইন্টারনেট সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করি। চুরি হওয়া থেকে রক্ষার জন্য আমরা গাড়িতে GPS ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করি। চোর চুরি করে পালিয়ে গেলেও আমরা গাড়ি উদ্ধার করতে পারি। এ সবকিছুই আমরা জানি। আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে IoT ডিভাইস ব্যবহার করি। আর এই প্রয়োজন যত থাকবে IoT এর ব্যবহারও আমাদের জন্য ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

IoT শুরুর ইতিহাস

১৯৮০ ও ১৯৯০ দশকের দিকে সেন্সর এবং ইনটেলিজেন্ট ডিভাইসের ব্যবহার সম্পর্কে ধারনা এবং গবেষণা শুরু হয়। তখন কোন একটি নেটওয়ার্কের দ্বারা কোন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারের গবেষণা শুরু হয়। যদিও ইন্টারনেট তখন একটি গবেষণামূলক প্রকল্পে ছিল। মানে তখনও ইন্টারনেট ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠেনি। ছোট কিছু গবেষণার কাজ তখন চলছিলো। যেমন ইন্টারনেট যুক্ত Vending Machine এবং RFID সিকিউরিটি সিস্টেম। বর্তমানের সব প্রযুক্তই ৮০’র দশকের গবেষণার মূল কারণ ছিল। সব ধরনের প্রসেসর চিপ ও আইসি সমূহ তখন অনেক বেশি দামি এবং পরীক্ষাধীন অবস্থায় ছিল। তাই সহজেই এগুলোকে ব্যবহার করা যেত না।

৯০ দশকের শেষের দিকে RFID এর গবেষণা যখন সম্পন্ন হয় এবং এর ব্যবহার সফল হওয়ার সাথেই IoT এর সূচনা হয়। ১৯৯৯ সালে MIT গবেষক Kevin Ashton সর্ব প্রথম “Internet of Things” শব্দটি ব্যবহার করেন। তার হাত ধরেই RFID এর ব্যবহার প্রসারিত হয়। তিনি নেটওয়ার্কের দ্বারা সেন্সরের ব্যবহার প্রসারিত করেন, যা তিনি ইন্টারনেট অব থিংস নামে পরিচিত করেন সবাইকে। IoT ধারনাটি আসে মেশিনকে তারবিহিন সংযোগ দ্বারা নিয়ন্ত্রন করা থেকে।

এক স্থানে রাখা মেশিনকে দূর থেকে অন্য এক মেশিনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি অটোমেটিক হতে হবে। মেশিন তারবিহীন অথবা তারযুক্ত সংযোগ দ্বারা কাজ করবে কোন মানুষের সাহায্য ছাড়া। যাতে কোনো মানুষকে অপারেটর হিসেবে থাকতে না হয়। এ ব্যবস্থাকে মেশিন টু মেশিন নামকরণ করা হয়। এর কাজ ছিল প্রোগ্রাম অনুযায়ী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা এবং তথ্য সংগ্রহ করে জমা করা অথবা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেই তথ্যকে অন্যত্র পাঠানো।

এই মেশিন টু মেশিন ব্যবস্থায় পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তির সেন্সর এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রিত সংযোগ শুরু হয়। যা বিলিয়ন মানুষকে একসাথে এক নেটওয়ার্কের মধ্যে যুক্ত করে। এর ফলে প্রচুর পরিমাণ ইনফর্মেশন এবং তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এখন এই মেশিন টু মেশিন সিস্টেমই ইন্টারনেটে সংযুক্ত এবং সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম নির্ভর আধুনিক স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার IoT নামে পরিচিত।

IoT এর ভবিষ্যৎ

IoT অনেক বড় শিল্প এবং ব্যবহার আস্তে আস্তে আরো বেড়ে চলেছে। সাথে বেড়েছে ব্যবসার সম্ভাবনা। পৃথিবীর সকল প্রযুক্তি কোম্পানি এখন আইওটি ডিভাইসের ব্যবসা নির্ভর হয়ে পড়েছে।কারণ প্রতি বৎসরই এর ব্যবহার অনেক বেশি পরিমাণে বাড়ছে। আর স্মার্ট IoT ডিভাইসের মধ্যে কি নেই? মোটামুটি সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস এখন ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা যায়। ঘরের রেফ্রিজারেটর থেকে শুরু করে ঘরের দরজা পর্যন্ত সকল জিনিসপত্রের ভিতরে ব্যবহার করা স্মার্ট ডিভাইসের পরিমাণই ডিভাইস প্রস্তুতকারী কোম্পানি গুলোর ব্যবসা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Analyst Gartner calculates এর হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালে ৮.৪ বিলিয়ন IoT ডিভাইস ব্যবহৃত হয় যা ২০১৬ সালের থেকে ৩১ শতাংশ বেশি এবং এর পরিমান ২০২০ সালে বেড়ে ২০.৪ বিলিয়নে দাঁড়াবে। অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি। প্রায় 26 বিলিয়ন। IDC এর তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে ২০১৮ তে ৭৭২.৫ বিলিয়ন ডলারের IoT ডিভাইস ব্যবহৃত হয়। ২০২০ এ এর পরিমান হবে ১ ট্রিলিয়ন আর ২০২১ এ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার। IHS এর হিসেবে ২০৩০ সালের দিকে প্রতি বছর ১২ শতাংশ হারে IoT এর ব্যবহার বাড়বে। যার পরিমান হবে ১২৫ বিলিয়ন ডিভাইস।

তো বোঝাই যাচ্ছে এর ভবিষ্যৎ। বাণিজ্যিক ভাবে এর কদর যেমন বাড়বে ঠিক তেমন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়বে। আর ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেখানে বাড়বে সেই খাতের সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

Reference

iot overview, iot simple explanation

Internet of Things IoT, Internet of things

simple meaning of Internet of Things

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *