প্রযুক্তির খবর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মোকাবিলায় রাজনীতিবিদরা প্রস্তুত তো?

June 16, 2019

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মোকাবিলায় রাজনীতিবিদরা প্রস্তুত তো?

এটি হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের খুঁজতে সাহায্য করছে কিন্তু বিভিন্ন বর্ণের মানুষের সনাক্ত করতে ভুল করছে। ক্যান্সার সনাক্ত করতে এটি সাহায্য করছে কিন্তু ভুল প্রতিষেধক সুপারিশের সম্ভাবনা আছে। অপরাধীদের সনাক্ত করছে এটি কিন্তু ভোটারদের লক্ষ্য করা বিদেশি শত্রুদেরও সাহায্য করতে পারে। এটি কর্মক্ষমতা বাড়াচ্ছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পক্ষপাতদুষ্ট হবার সম্ভাবনা আছে।

হ্যাঁ, এই ‘এটি’ বলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই বুঝানো হচ্ছে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা কিনা জটিল প্যাটার্নগুলো বুঝতে এবং সেগুলোর উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে মেশিনকে শেখাচ্ছে; ঠিক আমরা মানুষ যেভাবে করি। এই প্রযুক্তির উপকারিতা নিয়ে যেমন প্রচুর সম্ভাবনা আছে তেমনি রয়েছে ক্ষতিকর দিকেরও। গেল বছরে নয়া দিল্লির পুলিশ ২,৯৩০ জন হারিয়ে যাওয়া বাচ্চা খুঁজে পেয়েছে একটি পরীক্ষামূলক ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম প্রয়োগ করে। এই সিস্টেমটি ৪৫,০০০ মানুষের একটি ডাটাবেইজ ব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করেছে। অ্যামাজনের বানানো একটি ফেশিয়াল রিকগনিশন টুল ২০১৮ সালে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করেছিল। সেটি কংগ্রেসের ২৮জন সদস্যকে অপরাধের ব্যাপারে ভুলভাবে সনাক্ত করেছিল সেই সাথে গ্রেফতার করেছিল। এদের মধ্যে আফ্র-মার্কিন সিভিল রাইটস এর একজন প্রথিতযশা ব্যক্তি জন লুইসও ছিলেন।

সম্প্রতি আমরা দেখেছি এআই কি পরিমাণে উন্নত হয়েছে। ভয়েস থেকে শুরু করে ফেইস রিকগনিশন পর্যন্ত সব কিছুই এটি করছে। সরকার আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বিপুল পরিমাণে নাগরিকদের ডাটা রয়েছে যেটা কিনা এই এআইকে আরও নিখুঁত করে তুলতে এর খাদ্য হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা এআই যদি বেশি ডাটা নিয়ে কাজ করবে তত সেটি উন্নত ও নিখুঁতভাবে ফলাফল দিতে পারবে।

ট্রাম্পের ডিপফেইক বক্তব্য

আইনজীবী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এর আগে ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ দিক যেমন- প্রাইভেসি নিরাপত্তা, ডাটা চুরি, ক্রিমিনাল হ্যাকিং এসব মোকাবিলা নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন। আর এর মাঝে চলে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যার ভালো খারাপ দুই দিকই আছে; এবং সেই দিকগুলো নিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষদের সাথে ইন্ডাস্ট্রির প্রযুক্তিবিদদের রীতিমত এই প্রযুক্তিগুলো বিতর্ক হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষরা মনে করছেন সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এটি একদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মানুষের অনেক ক্ষতি করতে পারে। ইতিমধ্যে এর কিছু উদাহরণ আমরা দেখেছি।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির আইন প্রফেসর জেসন শুলজ মনে করেন, এআই ইতিমধ্যে প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রথাগত আইনের বিঘ্ন না ঘটিয়ে আমাদের বর্তমান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। জেসন এই ইউনিভার্সিটির এআই নাউ ইন্সটিটিউটে আইন ও পলিসির ব্যাপারগুলো দেখভাল করেন। তিনি আরও বলেন,

“আমরা এখন নির্ধারণ করার চেষ্টা করছি বর্তমান ইন্টারনেট যুগটি এআই এর উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট কিনা অথবা আমাদের সম্পূর্ণ নতুন ভিত্তি দরকার।”

সম্প্রতি আমরা ডিপফেইক প্রযুক্তির ব্যাপারে দেখেছি। দেখেছি ন্যান্সি পেলসির একটি ডিপফেইক ভিডিও কি পরিমাণে রাজনীতি পরিমণ্ডলকে প্রভাবিত করে। কিছুদিন আগে হ্যাকার ডিপফেইক ব্যবহার করে এক মহিলার লিঙ্কডইন আইডি ক্লোন করে তার কন্টাক্ট লিস্টে যেসব রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ছিলেন তাদের হ্যাক করার চেষ্টা চালিয়েছিল। এই বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর ভবিষ্যৎ রাজনীতি সেই সাথে নির্বাচনের জন্য। এই এআই প্রযুক্তিগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এবং বিদেশি শত্রুপক্ষের হাতে চলে গেলে দেখা যাবে দেশের অভ্যন্তরীণ অনেক গোপন ব্যাপার ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আর এটি প্রভাবিত করবে সরকার, রাজনীতিবিদ এবং পরিশেষে নাগরিকদের জীবনকেও।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সন্দেহাতীতভাবে উন্নয়ন হচ্ছে প্রযুক্তিবিদদের হাত ধরে। এর যেমন ভালো দিকও আছে খারাপ দিকও আছে যদি না এটাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের সকল রাজনীতিবিদদের পলিসি ও আইন প্রয়োগের সময় এই বিষয়টির ব্যাপারে নিবিড়ভাবে ভাবতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে বলে বিশ্বাস করেন প্রযুক্তি ও সিভিল রাইটস বিশেষজ্ঞরা।

রেফারেন্স: দ্যা স্টার অনলাইন

ইমেইজ সোর্স: আইইইই স্পেকট্রাম

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *