প্রযুক্তির খবর

এবার ফেসিয়াল রিকগনিশন ডাটাবেইজ থেকে ডিএনএ ম্যাচ করবে এআই

June 12, 2019

এবার ফেসিয়াল রিকগনিশন ডাটাবেইজ থেকে ডিএনএ ম্যাচ করবে এআই

আচ্ছা, কল্পনা করুন তো এমন একটি প্রযুক্তির কথা যা কিনা ক্রাইম সিন থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি তৈরি করতে পারবে। পুলিশ এটা পেলে সত্যই খুশি হবে। সায়েন্স ফিকশন মুভির কোন দৃশ্য মনে হচ্ছে তাই না?

এমন প্রযুক্তির কথা সম্ভবত আমাদের কল্পনাতেই এতদিন ছিল, তবে বেলজিয়ান এবং আমেরিকান প্রকৌশলীদের একটি দল ঠিক একই রকম কিছু তৈরি করেছে। ডিএনএ মানুষের মুখকে কিভাবে রূপ দেয় সে সম্পর্কে তারা যা জানেন তা ব্যবহার করে গবেষকরা একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন যা ইমেজগুলির একটি ডাটাবেসের মাধ্যমে স্ক্যান করে এবং একটি ক্রাইম সিনে প্রাপ্ত ডিএনএর সাথে ম্যাচ করে ডাটাবেইজে পাওয়া অনেক ছবি থেকে সম্ভাব্য ছবি নির্বাচন করতে পারে। গেল মঙ্গলবারে ন্যাচার কমিউনিকেশনস জার্নালে তাদের এই গবেষণটি প্রকাশিত হয়েছে। নিসন্দেহে বলা যায় অপরাধ জগতের সাথে যুদ্ধে এটা নতুন একটি অস্ত্র কিন্তু সেই সাথে কারো গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেয়ার ব্যাপারে একটি ভয়ঙ্কার নতুন উপায়।

এআই ডিএনএ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি তৈরি করতে পারবে

কারণ মানুষের মুখাবয়ব খাদ্যাভ্যস, বয়স, পরিবেশ এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট দ্বারাও প্রভাবিত হয়। আর শুধুমাত্র ডিএনএর উপর ভিত্তি করে মুখাবয়বের পূর্বাভাস দেয়া একরকম অসম্ভব বলা যায়।

একটি প্রেস রিলিজে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অফ লিউভেনের প্রকৌশলী পিটার ক্লায়েস বলেন,

“এই প্রযুক্তি বেশিরভাগ মানুষকে বের করে ফেলতে পারবে।” সেই সাথে আরও বলেন, “বাস্তবিকপক্ষে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক নিরীক্ষায় রেফারেন্স হিসেবে একজন ইউরোপীয় পুরুষের চেয়ে বেশি কাউকে পাই নি। যেটা কিন্তু একজন ফরেনসিক তদন্তকারীর কাছে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তিটিকে নিখুঁত করতে আমাদের আরও স্যাম্পল লাগবে।”

আশার কথা হল, একটি বড়সড় ফেইস ডাটাবেইজের সাথে এই নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় সাধন হয়েছে; ফলে তদন্তকারীরা চাইলে এখন সিঙ্গেল, লিমিটেড স্কেচের বদলে অনেক সম্ভাব্য রেফারেন্স মুখাবয়ব পেয়ে যাবেন নিমিষেই।

“আমরা যত বেশি জিন সনাক্ত করতে পারব তত বেশি এই প্রযুক্তিটি নিখুঁত হবে, এবং সেই সাথে এটি প্রাসঙ্গিক জিনের ব্যাপারে আমাদের জ্ঞানের উন্নতিতে সাহায্য করবে।” ক্লায়েস বলছিলেন।

“আমরা যত বেশি জিন সনাক্ত করব, এই পদ্ধতিটি আরও সঠিক হবে, এবং প্রাসঙ্গিক জিনগুলির আমাদের জ্ঞানের বৃদ্ধি হিসাবে এটি কেবলমাত্র উন্নত হবে,” ক্লেস বলেছিলেন।

সত্যই অদ্ভুত তাই না? আমাদের কল্পনায় থাকা সব সায়েন্স ফিকশন একে একে বাস্তবে চলে আসছে। অনুসন্ধিৎসু মন যদি আরও জানতে চায় তাহলে আরও গভীরে যেতে হবে।এই নিবন্ধটি পড়ার পরেই ফিরে যেতে হবে গবেষকদের পরিশ্রমের ফসলের কাছে। জানতে চাইলে, পড়তে পারেন নিচে রেফারেন্সে দেয়া গবেষণাপত্রটি। হ্যাপি রিডিং!

রেফারেন্স: ন্যাচার কমিউনিকেশনস জার্নাল
ইমেইজ সোর্স: ফিজিক্স ডট অর্গ

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *