ইতিহাস ইন্টারনেট

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ৩০ টি বছর

March 12, 2019

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ৩০ টি বছর

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ ডট প্রিফিক্সটি সুপরিচিত। যে কোন ওয়েব সাইটে ঢোকার সময় তার এড্রেস টি টাইপ করার আগে এই প্রিফিক্স টি আমরা যুক্ত করে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কেন এই প্রিফিক্সটি ব্যবহার করা হয়, কি ই বা এর তাৎপর্য। প্রিফিক্স টির পূর্ণরূপ হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। এই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্যাবলী গুলোর আন্ত সংযোগ ঘটিয়ে একটি ভাণ্ডার তৈরি করে থাকে। এই সুবিন্যস্ত ভাণ্ডার থেকে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এবছরের মার্চ মাসে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব তার প্রতিষ্ঠার ৩০ তম বছরে পদার্পণ করে। কেমন ছিল এই ৩০ বছরের যাত্রা, কি কি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে এই ৩০ বছরে, কি কি মাইলফলক স্পর্শ করেছে ওয়েব, মানুষের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলতে পেরেছে এটি চলুন জেনে নিই আজকের ব্লগ টি পড়ে।

এক নজরে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ৩০ টি বছর

১৯৮৯

  • ১৯৮৯ এর মার্চ মাসে টিম বার্নার্স লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রথম প্রস্তাবনাটি লিখেন। প্রজেক্ট টির উদ্দেশ্য ছিল হাইপার টেক্সট ব্যবহার করে সার্ন এর গবেষকদের মাঝখানে তথ্য আদান-প্রদান করা।

১৯৯০

  • ১৯৯০ সালে প্রথম ওয়েব সার্ভার এবং ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করা হয়েছিল। এটি হোস্ট করা হয়েছিল টিম বার্নার্স লি এর নেক্সট কম্পিউটার এ। এখানে ওয়েব এর বেসিক ফিচারগুলো দেখানো হয়েছিল এবং তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা বোঝানো হয়েছিল।

১৯৯১

  • ১৯৯১ এর আগস্ট মাসে world-wide-web নামে প্রথম ব্রাউজার এবং এডিটর উন্মুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় নেক্সাস। ইন্টারনেট নিউজ গ্রুপের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য একটি উন্মুক্ত করা হয়।
  • ১৯৯১ সালের অক্টোবর মাসে লিনাস টরভেল্ডস তৈরি করেন লিনাক্স নামের একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এটি ওয়েব সার্ভার গুলোর জন্য ডি ফ্যাক্টো অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হয়।

১৯৯৩

  • ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে সার্ন তাদের ওয়েব টেকনোলজি রয়ালটি ফ্রি ভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। গফার এর মত প্রতিযোগী ইনফরমেশন রিট্রিইভাল সিস্টেম এর রয়েলটি ডিমান্ড সার্ন এর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়িয়ে তোলে।
  • ১৯৯৩ সেপ্টেম্বর মাসে দা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপার কম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশন্স উইন্ডোজ এবং ম্যাকিনটোশ এর জন্য মোজাইক ব্রাউজারের একটি সংস্করণ উন্মুক্ত করে। এটিই প্রথম ব্রাউজার যেটিতে টেক্সট এবং ইমেজ একসাথে প্রদর্শন করা হতো। এই নতুন ফিচার এবং অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে এর সহজলভ্যতার কারণে সকলের কাছে ব্রাউজারটি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

১৯৯৪

  • ১৯৯৪ সালে বেভারলি হিলস ইন্টারনেট ( বি এইচ আই) জিও সিটি এর কাজ শুরু করে। এতে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন শহুরে এলাকার মডেল এর উপর ভিত্তি করে নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারত।
  • ১৯৯৪ এর মার্চ মাসে ইয়াহু এর সূচনা ঘটে। এটি অন্যান্য ওয়েবসাইট গুলোর একটি ডিরেক্টরি হিসেবে কাজ করত এবং সুবিন্যস্ত হায়ারার্কি কিংবা লেয়ারের ভিত্তিতে তাদের সাব ক্যাটাগরিতে ফেলতো।
  • ১৯৯৪ এর এপ্রিল মাসে ফুল টেক্সট সার্চ সুবিধা প্রদানকারী প্রথম ব্রাউজার হিসেবে ওয়েব ক্রলার উন্মোচিত হয়। উন্মোচনের সময় ব্রাউজারটি ডাটাবেজে ৪০০০ ওয়েবসাইটের ওয়েব পেজ ছিল।
  • ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে মোজাইক নেটস্কেপের সূচনা ঘটে যা পরবর্তীতে নেটস্কেপ ন্যাভিগেটর নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এটি এক সময় ৯০% এরও উপরে মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছিল।
  • ১৯৯৪ এর অক্টোবর মাসে ডব্লিউ থ্রি সি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি ইন্টারনেট এবং এইচটিএমএল, সি এস এস এর মত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব স্ট্যান্ডার্ড এর অফিশিয়াল গভর্নিং বডি হিসেবে কাজ শুরু করে।

১৯৯৫

  • ১৯৯৫ সালে সান মাইক্রো সিস্টেম তাদের জাভা ১.০ এর প্রথম প্রয়োগ ঘটায়। বড় বড় ওয়েব ব্রাউজারগুলো দ্রুতই তাদের ওয়েব পেজ গুলোতে জাভা অ্যাপলেট চালানোর ব্যবস্থা করে এবং সূচনা করে রিচ ইন্টারনেট অ্যাপ্লিকেশন এর প্রথম ওয়েভ টির।
  • ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে উইকি উইকি ওয়েব এর সূচনা ঘটে যেতে হচ্ছে প্রথম ইউজার এডিটেবিল ওয়েবসাইট।
  • ১৯৯৫ সেপ্টেম্বর মাসে অকশন ওয়েব নামে ইবে এর জন্ম ঘটে। এটি তৈরি করেন ইরানিয়ান আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার পিয়েরে অমিডায়ার। অকশন ওয়েব এ প্রথম বিক্রি কৃত বস্তুটি হচ্ছে একটি ভাঙ্গা লেজার পয়েন্টার যার মূল্য ছিল ১৪.৮৩ ডলার।
  • ১৯৯৫ এর সেপ্টেম্বর মাসে নেটস্কেপ ন্যাভিগেটর লাইভ স্ক্রিপ্ট সহ তাদের দ্বিতীয় সংস্করণ টি উন্মোচন করে। পরবর্তীতে এর নামকরণ হয় জাভাস্ক্রিপ্ট।
  • ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাসে আমাজন ডট কম প্রথম তাদের ওয়েবসাইটটিকে জনসাধারণের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বই বিক্রেতা হিসেবে উন্মুক্ত করে।

১৯৯৬

  • ১৯৯৬ সালে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এর দ্বিতীয় সংস্করণ টি মার্কেট ডমিনেট করা শুরু করে দেয়। প্রথম সংস্করণটি আরো আগে বের হলেও মার্কেটে সেটি তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
  • ১৯৯৬ সালে ডব্লিউ থ্রী সি সিএসএস লেভেল ওয়ান রিকমেন্ডেশন উন্মুক্ত করে।
  • ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ম্যাক্রোমিডিয়া ফিউচার ওয়েভ কিনে নেয় এবং ফিউচার স্প্ল্যাশ অ্যানিমেটর হয়ে যায় ম্যাক্রোমিডিয়া ফ্ল্যাশ ১.০ যা পরবর্তীতে 2005 সালে এডোবি ফ্ল্যাশ এ পরিণত হয়। যদিও ১৯৯৫ সালে যখন ফিউচার ওয়েভ অ্যাডোবি এর কাছে ফিউচার স্প্ল্যাশ বিক্রি করতে চাই তখন অ্যাডোবি অফারটি নাকচ করে দেয়।

১৯৯৭

  • ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে ডব্লিউ থ্রী সি এইচটিএমএল থেকে এইচটিএমএল ৩.২ পর্যন্ত তাদের রিকমেন্ডেশন পাবলিশ করে।
  • ১৯৯৭ সালে সিক্স ডিগ্রিস্ ডট কম প্রথম মডার্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত করে। এতে ব্যবহারকারীরা প্রোফাইল তৈরি করতে পারত এবং লিস্টে বন্ধু যোগ করতে পারত।

১৯৯৮

  • ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে নেটস্কেপ তাদের ওপেনসোর্স মজিলা প্রজেক্ট শুরু করে। এর থেকেই পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় ফায়ারফক্সের।
  • ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাসে ওয়াপ ফোরাম তাদের ওয়ারলেস অ্যাপ্লিকেশন প্রটোকলের প্রথম সংস্করণটি উন্মুক্ত করে।
  • ১৯৯৮ মাসে ল্যারি পেজ এবং সার্গেই ব্রিন গুগল এর প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯৯

  • ১৯৯৯ সালের জুন মাসে ন্যাপস্টার তাদের পিয়ার টু পিয়ার ফাইল শেয়ারিং সার্ভিস উন্মুক্ত করে। এটি মিউজিক অ্যালবামের যুগের সমাপ্তি ঘটায়।
  • ১৯৯৯ সালে জ্যাক মা প্রতিষ্ঠা করেন এশিয়ার সর্ববৃহৎ ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবা। পায়রা ল্যাবস ব্লগার নামে প্রথম ব্লগ পাবলিশিং টুল ও একই সময়ে প্রতিষ্ঠা করে।

২০০০

  • ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে ইবে তে পেপাল এর ১০ লক্ষ অকশন হয় যা ওয়েবসাইটটির মোট অকশনের ৭০ পার্সেন্ট।
  • ২০০০ সালে মার্চ মাসে ডট কম বাবল সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে যায় এবং ফেটে যায়। ফলে টেকনোলজি ফার্মগুলোর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।

২০০১

  • ২০০১ সালে মাইক বার্গম্যান ডিপ ওয়েব টার্মটির প্রচলন শুরু করেন।
  • ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে জিমি ওয়েলস এবং লার্নিং সেঞ্জার উইকিপিডিয়া লঞ্চ করেন। উইকিপিডিয়া হচ্ছে ইউজার এডিটেবল ওয়েবসাইট গুলোর মাঝে এযাবতকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট।
  • ২০০১ সালের জুলাই মাসে ন্যাপ স্টার এর ইতি ঘটে।

২০০২

  • ২০০২ সালের মার্চ মাসে ফ্রেন্ড স্টার নামের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর উন্মোচন ঘটে এবং মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যবহারকারী এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠে।

২০০৩

  • ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে অ্যাপল তাদের আইটিউনস মিউজিক স্টোর এর সূচনা করে। অক্টোবরে চলে আসে উইন্ডোজ সাপোর্ট।
  • ২০০৩ সালের মে মাসে ম্যাট মুলেনওয়েগ এবং মাইক লিটল ওয়ার্ডপ্রেসের সূচনা ঘটায়।
  • ২০০৩ সালের জুন মাসে সেকেন্ড লাইফ নামের অনলাইন ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড এর সূচনা ঘটে।
  • ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে নিকলাস জেনস্ট্রম এবং জানোস ফ্রিস স্কাইপ উন্মুক্ত করেন। ভিডিও চ্যাটিং এর জন্য এই ওয়েবসাইটটি নতুন দ্বার এর উন্মোচন ঘটায়।

২০০৪

  • ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লিকার এর জন্ম ঘটে। লুডিকর্প এর এই ওয়েবসাইট টি ছবি এবং ভিডিও সংরক্ষণের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফটোগ্রাফার এবং ভিডিওগ্রাফার দের মাঝে।
  • ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেইসবুক নামের সোশাল নেটওয়ার্কটির উন্মোচন ঘটে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এ এই ওয়েবসাইটটি সূচনা করে নতুন এক যুগের। এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ।
  • ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে ফায়ারফক্সের প্রথম সংস্করণটি উন্মুক্ত হয়।
  • ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ডিগ এর অপারেশন শুরু হয় সোশ্যাল নিউজ এগ্রেগেটর হিসেবে।

২০০৫

  • ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে ইউটিউব এর প্রথম ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ভিডিওটির টাইটেল ছিল “মি এট দ্যা জু”। বর্তমান ভিডিও কনটেন্ট এর জন্য এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
  • ২০০৫ সালে ওয়েব ২.০ এর সূচনা ঘটে।

২০০৬

  • ২০০৬ সালে আমাজন তাদের ক্লাউড স্টোরেজ উন্মুক্ত করে।
  • ২০০৬ সালের জুলাই মাসে টুইটার এর লঞ্চ হয় এবং খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। মূলত সেলিব্রেটি রাই এটির ব্যবহার বেশি করে থাকে।
  • ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি ভেলিড ইমেইল এড্রেস থাকলেই ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা শুরু হয়। ফলে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় ওয়েবসাইটটি।

২০০৭

  • ২০০৭ সালের জুন মাসে অ্যাপল তাদের আই ফোনের মাধ্যমে মোবাইলে ফুল ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স এর সুবিধা এনে দেয়।
  • ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্ম নামের একজন ব্যক্তি বিটকয়েন এর সূচনা ঘটান। শুরু হয়ে যায় ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে উন্মাদনা। এই উন্মাদনা এখনো শেষ হয়নি।
  • ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে এইচ টি এম এল ৫ এর প্রাথমিক ড্রাফট তৈরি করা হয়।
  • ২০০৮ সালের জুলাই মাসে গুগল ডুপ্লিকেট এন্ট্রি গুলো এলিমিনেট করার পরেও এক ট্রিলিয়ন ইউনিক ইউ আর এল গণনা করে।
  • ২০০৮ সালের জুলাই মাসে অ্যাপল তাদের অ্যাপ স্টোর লঞ্চ করে।
  • ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গুগল তাদের ক্রোম ব্রাউজার লঞ্চ করে।

২০০৯

  • ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে পাইরেট বে এর ফাউন্ডার দোষী প্রমাণিত হন এবং জেলে প্রেরিত হন।

২০১০

  • ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে গুগল তাদের জিমেইল ইউজার দের জানাই যে ফেইসবুক একটি ফাঁদ।
  • ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট সকল ধরনের ইন্টারনেট পর্ন ব্যান করে দেয়।

২০১১

  • ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে অ্যাডোবি মোবাইল ফ্ল্যাশ ডেভেলপমেন্ট বন্ধ করে এইড টি এম এর ৫ এর দিকে নজর দেয়।
  • ২০১১ সালের মে মাসে মার্কিন জাজ একটি আইপি এড্রেস কে একজন মানুষের সমতুল্য ভাবার বিষয় টিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

২০১২

  • ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ফেইসবুক এক বিলিয়ন ডলারের বিনিময় ইনস্টাগ্রাম কে কিনে নেয়।

২০১৩

  • ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ডিপ ওয়েব মেইনস্ট্রিম এক্সপোজার পাওয়ার পরে এফ বি আই সিল্ক রোড কে বন্ধ করে দেয়।
  • ২০১৩ সালের জুন মাসে এডওয়ার্ড স্নোডেন এনএসএ-এর মাছ সার্ভেইলেন্স প্রোগ্রাম এর রহস্য সকলের কাছে উন্মোচন করে দেন। এই এডওয়ার্ড স্নোডেন ই হচ্ছেন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা।

২০১৪

  • ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেইসবুক ১৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে হোয়াটসঅ্যাপ কে কিনে নেয়। ফলে কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত বাঘা বাঘা সব অ্যাপ্লিকেশনগুলি চলে যায় ফেসবুকের দখলে।
  • ২০১৪ সালে এস সি সি নেট নিউট্রালিটি নিয়ে কাজ শুরু করে। এতে করে বিপাকে পড়ে যায় ওয়েব কনটেন্ট ডেভেলপাররা।

২০১৫

  • ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফাদার অফ দ্যা ইন্টারনেট নামে পরিচিত ভিন্ট সার্ফ আমাদের সতর্ক করেন যে আমরা ডিজিটাল অন্ধকার যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।
  • ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আই পি ভার্সন ৪ এর এড্রেস সংখ্যা শেষ হয়ে যায়। এর অর্থ হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে।
  • ২০১৫ সালে হলা এর মতো জনপ্রিয় ভিপিএন সার্ভিস এও ম্যালওয়্যার ধরা পড়ে। পূর্বে ভিপিএন সার্ভিস গুলো কে ম্যালওয়্যার মুক্তভাবে ওয়েব ব্রাউজিং এর জন্য ব্যবহার করা হতো। এই ঘটনার পর ভিপিএন সার্ভিস গুলো পূর্বের মতো নির্ভর যোগ্যতা হারায়।

২০১৬

  • ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে উইন্ডোজ ৯৫ চালানো সম্ভবপর হয়ে ওঠে।
  • ২০১৬ সালে মোবাইল ওয়েব ব্রাউজিং ডেস্কটপ থেকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
  • ২০১৬ সালে স্ন্যাপচ্যাট জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসে। ছবি এবং ভিডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন যেন নতুন এক ট্রেন্ড এ পরিণত হয়।

২০১৭

  • ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জানা যায় যে যখন আপনি পাইরেট বে ব্রাউজ করেন তখন এটি আপনার সিপিউ কে ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইন করতে থাকে। ফলে বিঘ্নিত হয় আপনার প্রাইভেসি।
  • ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে অফিশিয়ালি এফসিসি নেট নিউট্রালিটি বন্ধ করে দেয়।
  • ২০১৭ সালের একটি রিসার্চে বেরিয়ে আসে যে পৃথিবীর ৫০ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মানুষ এর কাছে ইন্টারনেট এক্সেস রয়েছে। পুরো বিশ্বে রয়েছে ৪৫০ মিলিয়ন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক যার সংখ্যা পাঁচ বছর পূর্বে ছিল মাত্র ১০০ মিলিয়ন।

২০১৮

  • ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ব্রাউজার গুলো পাসওয়ার্ড ফ্রি অথেনটিকেশন এর নতুন ওয়েব স্ট্যান্ডার্ড সাপোর্ট করা শুরু করে।
  • ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের আবিষ্কারক নিরাপদ ইন্টারনেট এর জন্য নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করেন।
  • ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় বেরিয়ে আসে যে ইন্টারনেটের ৪০% অ্যাক্টিভিটি ফেইক।
  • ২০১৮ সালে জানা যায় যে ফিশিং সাইট গুলোর মধ্যে অর্ধেক পরিমাণে প্যাডলক প্রদর্শন করে যাতে ব্যবহারকারীরা মনে করেন এগুলো নিরাপদ।

২০১৯

  • ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ৩০ বছরে পদার্পণ করে। অনুমান করা হয় পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৬০% মানুষ অর্থাৎ চার বিলিয়ন মানুষ এরও বেশি এখন অনলাইন।

৩০ বছরের এই ধাপগুলো পেরিয়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব পরিণত হয়েছে বর্তমানের পরিপূর্ণ একটি সিস্টেমে। সিস্টেমটি সূচনা হয়েছিল গবেষকদের মাঝে তথ্য আদান প্রদানের জন্য, কিন্তু নানা সৃজনশীল মানুষদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ফলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এখন পরিণত হয়েছে আমাদের সকলের ব্যবহারের বস্তুতে। আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে এটি। ওয়েব এর ৩০ বছরের এই সুদীর্ঘ যাত্রায় এর সফলতার সাথে সাথে কিছু বিফলতা ও আমরা দেখতে পেলাম। অসাধু কাজ সাধনের জন্য অনেকেই ব্যবহার করেছেন এই সুবিধাটি কে। ধরা পড়েছেন অনেকে, কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন আরো অনেকেই। প্রতিটি ভালো জিনিস এরই যেমন কিছু খারাপ দিক থাকে, ওয়েব এর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি ঠিক তেমনই। আমাদের মত ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করে আমরা এই সুবিধা গুলো কে কিভাবে ব্যবহার করছি। ভালো উদ্দেশ্যে নাকি খারাপ উদ্দেশ্যে। চলুন ইন্টারনেট কে করে তুলি একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে, এর ব্যবহার নিশ্চিত করি সকল ধরনের ভালো উদ্দেশ্য সাধনে। নিত্যনতুন আবিষ্কারে ওয়েব কে করে তুলি পূর্বের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়। সফল করে তুলি ওয়েবের ৩০ বছরের যাত্রা।

কেমন লাগলো আমাদের আজকের লেখাটি? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। নতুন কোন কিছু নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে আমাদের সাথে থাকুন। চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগ দিন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপে।

জ্ঞান চর্চা চলুক অবিরাম, প্রতিদিন

Reference: Wiki, History

প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রয়েছে

আমাদের কমিউনিটি

প্রযুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই সব সময়। তাই আমাদের কমিউনিটিতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ প্রযুক্তির সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনাদের যে কোন ধরনের সমস্যা, অজানা বিষয় গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত সব সময়

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *